কৃত্রিম মাটির বাসা : পাখিদের প্রকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে

366

মেহেরপুর, ১৮ মার্চ ২০১৯ (বাসস) : পাখিদের বসবাসের জন্য গাছে হাড়ি ঠিলি বেধে কৃত্রিম বাসা বানিয়ে পাখিদের ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের স্বভাব প্রকৃতির। কৃত্রিম বাসায় পাখির অবস্থান ও ডিম পাড়ার কারণে পাখিদের স্বভাব ও প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। পাখিরা প্রজননের সময় বাসা বানানোর জন্য অনুকূল পরিবেশে বাসা তৈরি করে। অভয়াশ্রমের নামে গাছে ঠিলি হাড়ি‘র বাসা পেয়ে পাখিরা হারিয়ে ফেলছে তাদের বাসা বুনুন। এজন্য মেহেরপুরের পাখি প্রেমিরা গাছে ঠিলি বাধা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। প্রাণি ও পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন- গাছে যখন কলস বেধে দেয়া হয় পাখিদের বসবাসের জন্য তখন পাখিদের মধ্যে একটা বাসা নিয়ে আচরণগত কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। কারণ প্রতিটা গাছে একই আকৃতির কৃত্রিম বাসায় ডিম পাড়াতে মাংসাশী পাখিদের শিকারে পরিণত হচ্ছে। বাসা বানাবার পদ্ধতিও তারা হারিয়ে ফেলছে। অপরদিকে সঠিক তাপমাত্রা না থাকায় অধিকাংশ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটছেনা। এছাড়া কৃত্রিম বাসাতে ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছেনা পাখির বাচ্চা।
মেহেরপুর জেলা বার্ড ক্লাবের সভাপতি এম এ মহিত জানান- অনেক ছোট পাখি আছে তারা পাতার আড়ালে বাসা বানাতে পছন্দ করে। আবার কোন পাখি বড় গাছে এবং কোন পাখি ছোট গাছে বাসা বানাতে পছন্দ করে। ছোট পাখিরা মাটির কলসে বাসা বানায় না। গবেষণাতে দেখা গেছে- মাটির কলসে দুই ধরনের পাখিকে প্রজনন করতে বেশি দেখা যায়। যেমন- ভাত শালিক, গো শালিক, দোয়েল ও পেঁচা পাখি। মাংসাশী পেঁচা পাখি যে গাছের কলসে অবস্থান নেয় সেই গাছে অন্য পাখিরা ভয়ে বাসা বাধেনা। পাখিরা যখন কৃত্রিম বাসায় ডিম পাড়ে তখন নির্দিষ্ট তাপমাত্রা না থাকায় অনেক ডিম নষ্ট হয়ে যায়। এবং অনেক শিকারী পাখি খুব সহজে পাখির ডিম ও বাচ্চা খেয়ে ফেলে। যারা পাখিদের বসবাসের জন্য গাছে হাড়ি ঠিলে বেঁধে পাখির অভয়াশ্রমের জন্য কাজ করছেন তারা না বুঝে ভুল করছেন। মহিত জানান- পাখিদের অভয়াশ্রমের নামে গাছে কৃত্রিম বাসা ঝোলানোর বিরুদ্ধে তারা জনমত গঠনে কাজ করছেন।
পাখি প্রেমিক সদানন্দ মন্ডল জানান- প্রকৃতির নিয়মে যা কিছু ঘটে তার ফলাফল সব সময় ভাল হয়। কৃত্রিম বাসা ঝুলিয়ে বিলুপ্ত পাখিদের সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। বিলুপ্ত পাখিদের সংরক্ষণ করতে হলে ফলদ, ওষুধী ও বনজ গাছ সংরক্ষণ করে অনুূকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কারণ গাছ ও পাখির সাথে একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। গাণিতিক গতিতে যেমন জনসংখ্যা বাড়ছে। সেই সাথে পাখিদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। কারণ নগর পত্তন ও লোকলয়ের কারণে পাখি ও বন্যপ্রাণি হুমকির মুখে চলে যাচ্ছে।
অনেক পাখি আছে তারা বিভিন্ন বড় গাছকে আবাস স্থল হিসেবে বেছে নেই। যেমন- শত বছরের পুরনো শিল কড়ুই গাছ। শিল কড়ুই গাছে মেছ পেঁচা, টিয়া, কাঠঠোকরা, বাজপাখি, ঈগল বেশি দেখা যায়। এ গাছে বেশির ভাগ মাংসাশি বড় পাখি বাসা বেধে থাকে। পুরনো শিল কড়ুই গাছ কমে যাওয়ার কারণে এ পাখিদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমাদের দেশে বাশ বাগান কমে যাওয়ায় অনেক পাখি বাসা বানাতে পারে না। এদের মধ্যে ধলাবক,ধুপনি, নিশি বক, পানকৌড়িসহ আরও অনেক পাখি আছে। এবং অনুকূল পরিবেশ না থাকায় সেই সাথে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
প্রকৃতির নিয়মে পাখিরা নির্দিষ্ট সময়ে প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ খুঁজে নেই। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত পাখিদের প্রজননের সময়। এরা এপ্রিল থেকে বাসা বানাতে শুরু করে। পাখি রক্ষায় বনায়নের বিকল্প নেই বলে জানান পাখি প্রেমিরা।