বাসস দেশ-২২ : মধ্যরাত থেকে ঢাকা সিটি নির্বাচনে প্রচারণা বন্ধ

80

বাসস দেশ-২২
ডিএনসিসি-প্রচারণা
মধ্যরাত থেকে ঢাকা সিটি নির্বাচনে প্রচারণা বন্ধ
ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ (বাসস) : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপ-নির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সম্প্রচারিত ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচনে আজ মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে।
ডিএনসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম আজ বাসসকে বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আজ মধ্যরাত থেকে কোন প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে কোন ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল মিটিংসহ সকল প্রকার প্রচার প্রচারণা করা যাবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ডিএনসিসিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন উত্তরের কোন অফিস খোলা থাকবে না। তবে কোন পাবলিক পরীক্ষা থাকলে, সে পরীক্ষা যথানিয়মেই চলবে। এছাড়া নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে বহিরাগতদের আজ রাত ১২টার মধ্যে ভোটার এলাকা ছাড়তে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বাড়ি ঢাকার বাইরে কিন্তু পড়াশোনা করতে ডিএনসিসিতে থাকছেন, তাদের জন্য এই নির্দেশনা বলবৎ হবে না। তারা মেস বা হোস্টেলে থাকতে পারবেন।
যানবাহন চলাচলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর অংশ হওয়ায় ডিএনসিসির ভেতর দিয়েই আন্তঃজেলা পরিবহন চলাচল করবে। এক্ষেত্রে সংযোগ সড়ক এসবের আওতায় পড়বে। আবার প্রধান প্রধান রাস্তায় যান চলাচল করবে। তাই জনগণের অসুবিধার কথা চিন্তা করে ডিএনসিসির মধ্যে মহাসড়ক ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা ওই রকম রাস্তায় যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
এক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শকের (নির্বাচন কমিশন থেকে পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে) ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কতিপয় জরুরি কাজ যেমন-অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চালাচলও এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহসহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এছাড়া বিমানবন্দরে যাত্রী যাওয়ার গাড়ি এবং বিদেশ থেকে আসা যাত্রী ও তার আত্মীয় স্বজনের চলাচলের জন্য গাড়ির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এজন্য বিমান টিকিট তথা উপযুক্ত প্রমাণ সঙ্গে রাখতে হবে। বিদেশি কূটনৈতিক ও দূতাবাসে কর্মরত দেশি-বিদেশির দূতাবাসে চলাচলের গাড়িও এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
আবুল কাসেম বলেন, নির্বাচনে প্রতি সাধারণ কেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ১৯ জন করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৩ জন করে ফোর্স মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসার সমন্বয়ে মোট ২৭টি মোবাইল টিম নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া এদের ১৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাব থাকবে ২৭টিম এবং বিজিবি নিয়োজিত থাকবে ২৫ প্লাটুন। নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালন ও অনিয়মের শাস্তি প্রদানে ৫৪ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন ২৪ জন।
২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তরের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডেও ভোটগ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনেও একই হারে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
উত্তরে মেয়র পদে উপনির্বাচনে ৫ জন, সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৫ জন এবং দক্ষিণের সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৫ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ঢাকা উত্তরের ৫৪ ওয়ার্ডে ভোটার ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৫ লাখ ২২ হাজার ৭২৬ ও নারী ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৪ জন। আর উত্তরে সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটার ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫ ও নারী ২ লাখ ৮২ হাজার ৬৪৯ জন।
দক্ষিণের সম্প্রসারিত ১৮ ওয়ার্ডে ভোটার ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ ও নারী ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৪ জন।
বাসস/এএসজি/এমএসএইচ/১৯১০/-জেজেড