কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব রোধে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে ইসির প্রতি আওয়ামী লীগের আহবান

500

ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব রোধে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে একথা জানান।
এইচ টি ইমাম বলেন, ‘আমরা কমিশনকে কালো টাকা ও পেশিশক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছি। পেশিশক্তির প্রভাব রোধে কমিশন অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থের অনেক চালান এসেছে। এগুলো কমিশন রোধ করবে কিভাবে? এরমধ্যে একটি চালান ধরা পড়েছে। তাই আমরা কালো টাকার প্রভাবের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছি। নির্বাচনের দিন, অনলাইন মানি ট্রান্সফার বা মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ করার বিষয়ে কমিশনের কাছে প্রস্তাব করা হয়েছে।’
পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে একজন কমিশনারের পৃথক বার্তা জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে উল্লেখ করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন মানে চিফ ইলেকশনারসহ চার কমিশনার। সকলে মিলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে যা বিবেচনা করবেন তা বলবেন। কোন বিশেষ একজন কমিশনার ভিন্নভাবে কোন নির্দেশ দিতে পারেন না এবং তা উচিতও নয়। এটি মানুষের মনে দ্বিধা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন কমিশনারের মন্তব্য দেখে আমরা হতচকিত হয়ে গেছি। এরকম তো হওয়ার কথা নয়। কমিশনে যা কিছু বলবেন কমিশনের নামে তা প্রচার হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে কমিশন। নির্দেশ দিবে কমিশন। সেক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি বলতে পারেন। কিন্তু কমিশন থেকে বের হয়ে একজন ব্যক্তিগতভাবে নির্দেশ দিবেন এটি গ্রহণযোগ্য নয়। যে কোন প্রতিষ্ঠানে চেইন অব কমান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ন। একেক জন কমান্ডার একেক ধরণের কমান্ড দেন তাহলে সবাই বিভ্রান্ত হবেন।’
এর আগে সকালে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ, ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদেও উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিপক্ষের হামলা ও আক্রমনের অভিযোগ জানাতে তারা ইসিতে এসেছিলেন বলে এইচ টি ইমাম জানান।
গতকাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ইসির বৈঠকের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা অনেক কিছুই বলতে পারি। নির্বাচন কমিশনকে শুধু হেয় নয়, কমিশনের সামনে এমনভাবে কথা বলেন, যেগুলো আচরণবিধির মধ্যে পড়ে না। নির্বাচন কমিশনকে কেউ কেউ টেবিল চাপড়ে কথা বলেন বা কেউ অশোভন উক্তি করেন এতে আমরাও ছোট হয়ে যাই। কমিশনকে আমরা এবিষয়টিও জানিয়েছি।’
এছাড়াও সিইসির সঙ্গে বৈঠকে তারা যান চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল, সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে অনুমতি, প্রার্থী ও দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য যান চলাচলের অনুমতি দেয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানান এইচ টি ইমাম।
প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, এডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার ও ড. সেলিম মাহমুদ।