বাসস প্রধানমন্ত্রী-৭ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) : আওয়ামী লীগের আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

442

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৭ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
শেখ হাসিনা-আলোচনা সভা
আওয়ামী লীগের আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী

ঐক্যফ্রন্ট সরকারের সরকার প্রধান কে হবে সে বিষয়ে দেশবাসীকে তারা অন্ধকারে রেখেছে এবং এ বিষয়ে তাদের দূরভিসন্ধি থাকারও ইঙ্গিত দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যে ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে তারা নাকি সরকার গঠন করবে, তাহলে সরকারের প্রধান কে হবে সেটা কিন্তু আজ পর্যন্ত জাতির সামনে দেখাতে পারে নাই।’
‘একটা প্রশ্ন রেখে যাই তাদের সরকার প্রধান কে হবে, এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎকারী- সে হবে না, নাকি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানকে হত্যাকারী সাজাপ্রাপ্ত আসামী- সে হবে, নাকি ঐ রাজকারবাহিনী বা যুদ্ধাপরাধে যাদের সাজা দিয়েছি তাদের কেউ হবে- সেটাতো স্পষ্ট করে তারা জানায় নাই। সেটাতো দেশবাসী জানে না’ বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীকেও সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বেছে নিতে হবে যে তারা কাকে চায়। তারা কি ধরনের সরকার চায়। দেশের এবং দেশের জনগণের ওপরই আমি সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম। ‘স্বাধীনতাবিরোধী, খুনী, রাজকার-আলবদর-আলশামস বাহিনী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিবাজ, ঐ অস্ত্র চোরাকারবারী, সাজাপ্রাপ্ত খুনের আসামী এরা কখনও এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবে না,’ যোগ করেন তিনি।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনে নেমেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তাদের আদর্শহীনতা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে, তারা কিসের লোভে দুর্নীতিবাজদের সাথে হাত মিলিয়েছেন? তারা জনগণের কাছে কিভাবে আবার ভোট চাইতে যাবেন?
তিনি আবারও প্রশ্ন তোলেন, অপরাধীদের উদ্ধার করতেই কি নেমেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা?
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে কোন পরিবর্তনের কথা বলছেন তারা। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দিয়ে পরিবর্তন ! তিনি বলেন, দেশের ভালো চাওয়া এবং দেশের মানুষের ভালো থাকা যদি স্বেচ্ছাচারিতা হয় তাহলে তারা কী চান? তারা যে পরিবর্তনের কথা বলছেন তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে আবার লুটপাট, আবার অগ্নিসংযোগ, আবার মানিলন্ডারিং, আবার দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, আবার ৫০০ জায়গায় বোমা বিস্ফোরণ, আবার গ্রেনেড হামলা, আবার বাংলা ভাই সৃষ্টি, আবার এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা- সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনবেন?’ ‘লাখো শহীদের জীবনের বিনিময়ে আমাদের বিজয় এলেও, পঁচাত্তরের পর সেই স্বর্ণালী ইতিহাস মুছে ফেলে নতুন প্রজন্মকে মিথ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে তৎকালীন অপশক্তি পরিচালিত সরকার। স্বাধীনতার সুফল একে একে নস্যাৎ করতে চেয়েছিলো তারা,’ বলেন তিনি।
২০০১ সালে চার দলীয় জোট সরকারের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ এ ক্ষমতায় তারা জনগণের ভোটে আসেনি। তাই জবাবদিহিতাও ছিলো না জনগণের কাছে। সেজন্য খুন-হত্যা-লুট ও সন্ত্রাস করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছিলো এবং তারা নির্বাচনে জয়লাভের জন্য প্রায় দেড় কোটি ভুয়া ভোটারও সৃষ্টি করেছিল। ‘একাত্তরে ছিলো খান সেনাদের অত্যাচার আর ২০০১ এ বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছে দেশের মানুষ। দুর্নীতি-হত্যা-খুন নিয়েই রাজনীতি করেছে বিএনপি। তাদের ভোটে জেতার মতো আত্মবিশ্বাসও ছিলো না,’ যোগ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের কপালে যে দুর্নীতিগ্রস্তের তকমা ছিলো- আমাদের ১০ বছরের শাসনামলে তা দূর হয়েছে। মানুষের জীবনমানে আজ পরিবর্তন হয়েছে। তারা আজ আশাবাদী হতে পারে, আস্থার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। ‘সাধারণ মানুষ আর তৃণমূলের উন্নয়নই ছিলো আমাদের মূল লক্ষ্য। হাওয়া ভবনের মতো কোনো দুর্নীতির কারখানা আওয়ামী লীগ করেনি’।
বিরোধী দল আমাদের সমালোচনা করবে এটাই স্বাভাবিক উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা নির্বাচনকে বানচাল করতে চেয়েও পারেনি। কেননা, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মানুষ নৌকাকে বেছে নিয়েছিলো দেশের অগ্রগতির জন্য। আজ দেশের সত্যিকারের পরিবর্তন হয়েছে। দেশের সব ক্ষেত্রেই আজ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মানুষের যে সত্যিকারের উন্নয়ন, তা তো আওয়ামী লীগই এনে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্যই হলো- দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া।
বাসস/এএসজি-এফএন/একেএইচ/২১১৫/-কেএমকে