বাসস দেশ-৩৫ : সম্ভাবনার মৃত্যুরোধে চাই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন : ব্রাইটার টুমোরোর সভায় অভিমত

549

বাসস দেশ-৩৫
অরিত্রি-মৃত্যু-প্রতিরোধ
সম্ভাবনার মৃত্যুরোধে চাই শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন : ব্রাইটার টুমোরোর সভায় অভিমত
ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : কেবল শিক্ষকের আচরণ নয়, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনই পারে সম্ভাবনার মৃত্যু প্রতিরোধ করতে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যার সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
আজ বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউ-েশন (বিটিএফ) আয়োজিত ‘সম্ভাবনার মৃত্যু প্রতিরোধে করণীয়’-শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিটিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)’র সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন, ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সহকারি প্রভাষক সাজেদা আকতার, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান, কবি ও সাংবাদিক জুনান নাশিত, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এমিলি জামান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারশিদ ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ রুহুল গণি জ্যোতি, সহ-সভাপতি রাশেদ আলী, সহ-সভাপতি জাকারিয়া আল মাহমুদ উচ্ছ্বাস, সহ-সভাপতি জিয়া উল হক ও অরিত্রির পিতা দীলিপ অধিকারি বক্তৃতা করেন।
ড. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভাবনার মৃত্যু প্রতিরোধ করবে, তবে এ পরিবর্তন আনায় সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি অরিত্রির আত্মহত্যায় ভিকারুন নিসার শিক্ষকের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘শিক্ষক হয়ে সন্তানের সামনে পিতাকে অপমান করা ওই শিক্ষকের ঠিক হয়নি। আমরা অরিত্রিকে ফিরে পাব না। কিন্তু অরিত্রির মতো সম্ভাবনার মৃত্যু প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক দায় রয়েছে এবং এ জন্য আমাদের সকলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
কাবেরি গায়েন বলেন, কেবল অরিত্রিই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ১০ দিনে ৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এমন কেন হচ্ছে এ বিষয়টি নিয়ে সকলেরই ভেবে দেখতে হবে। তিনি প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, মুখস্ত বিদ্যা আর কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারছে না।
ফারজানা রহমান বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখার জন্যে একটি করে কাউন্সিলিং সেন্টার গড়ে তোলা দরকার।
অনুষ্ঠানের সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, যে সম্ভাবনার মৃত্যু হয়েছে তাকে আর ফিরে পাব না। আর কোনো সম্ভাবনা যাতে ঝরে না যায়, সে কারণে সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করে যেতে হবে।
লেখিকা এমিলি জামান বলেন, ছাত্রদের শিক্ষকের মর্যাদার পাশাপাশি আত্মমর্যাদার দিকে সচেতন থাকতে হবে।
সাজেদা আকতার বলেন, শিক্ষার্থীদের যথাযথ বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অরিত্রির পিতামাতার উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় এক বেদনা বিধূর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বাসস/জেজেড/২১৪৫/এএএ/কেএমকে