হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আওয়ামী লীগের দাবি

514

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : কর্মীদের উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সন্ধ্যায় কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানায়।
কমিশনের সাথে সাক্ষাৎ শেষে এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন নির্বাচন কমিশনের অধীন। আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়ার দাবি জানিয়েছি। কেননা সারাদেশে আমাদের কর্মীদের বেছে বেছে হামলা করা হয়েছে। নির্বাচনে তারাই তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেছে বেছে তাদের ওপর যে আক্রমণ তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ, নির্মোহ থেকে ভূমিকা পালন করছে। তারা তাদের চেষ্টা করছে।
এইচটি ইমাম বলেন, ‘সিইসি বলেছেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা বলেছি, আমরাই যদি আক্রান্ত হই, তবে দায়িত্ব কিভাবে পালন করবো।’
তিনি জানান, ‘নোয়াখালীর ঘটনা সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আমাদের কর্মীকে প্রথমে চোখে মরিচের গুড়া দেয়া হয়েছে। এরপর মাথা থেঁতলিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একটা স্বাধীন দেশে একাত্তরের মতো এমন নৃশংস কর্মকান্ড মেনে নেয়া যায় না।’
সিইসি আমাদের জানিয়েছেন, সারাদেশে যে সহিংস ঘটনা ঘটছে, তারা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
এএইচটি ইমাম দলীয় অভিযোগ এনে চারটি পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ থেকে দূরে রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে দেশি-বিদেশী সংস্থা পর্যবেক্ষণ করে। ইসিতে নিবন্ধিত যে দেশীয় ১১৮টি সংস্থা রয়েছে এরমধ্যে ৪টি রয়েছে একবারেই দলীয়। এরা যদি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে থাকে, এদের নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নির্বাচনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
এই চারটি সংস্থা হচ্ছে- ডেমোক্রেসি ওয়াচ, খান ফাউন্ডেশন, লাইট হাউস ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ। এদের মধ্যে ডেমোক্রেসি ওয়াচের প্রধান হলেন-তালেয়া রেহমান, যিনি বিএনপির বড় নেতা সাংবাদিক শফিক রেহমানের স্ত্রী, খান ফাউন্ডেশন চালান বিএনপি নেতা ড. মঈন খানের স্ত্রী, লাইট হাউসের পেছনে তারেক রহমান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের পেছনে রয়েছে আদিলুর রহমান খান, যার প্রতিষ্ঠান অধিকারের নিবন্ধন সম্প্রতি কমিশন বাতিল করেছে।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।