বাসস প্রধানমন্ত্রী-৪ : আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থন পাবে : প্রধানমন্ত্রী

589

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৪
শেখ হাসিনা-অর্থোপেডিক হাসপাতাল
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থন পাবে : প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর ২০১৮ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষায় তাঁদের ভোট দিয়ে পুনর্নির্বাচিত করে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং জনগণ সেই সেবাটা পাবে যদি আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে ‘জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হাসপাতাল ভবন সহ স্বাস্থ্যখাতের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের জনগণ নিশ্চয়ই নৌকায় ভোট দেবে। আবার এসে আপনাদের এই ভিত্তিপ্রস্তর যেগুলো স্থাপন করেছি ইনশাল্লাহ সেগুলো উদ্বোধন করে দিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জনগণ আমাদের নির্বাচিত করে। যে কাজগুলি শুরু করেছি সেগুলো যেন সমাপ্ত করতে পারি নইলে ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকের মত আবার বন্ধ করে রেখে দেবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নিউরো, কিডনী, আই এবং ইএনটি ইনস্টিটিউটসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প ২০০১ পরবর্তী সরকার বন্ধ করে দেওয়ার ৭/৮ বছর পর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে পুনরায় শেষ করেন জানিয়ে বলেন, ‘ঐ রকম দুর্ভাগ্যে বাংলাদেশের জনগণকে আর যেন পড়তে না হয়’।
তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে উন্নযনের গতি অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ সেবা পাবে, মানুষের কল্যাণ হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল গণি মোল্লা এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের আধুনিকায়নের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হয়।
অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- মিরপুরে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ২৪৮ আসন বিশিষ্টি ছাত্রী হোস্টেল (১০ তলা ভিত বিশিষ্ট ৯ তলা ভবন), মহাখালীতে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’র সম্প্রসারিত (৯ তলা ভিত বিশিষ্ট) তিন তলা ভবন উদ্বোধন এবং এক্সপানশন অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস এন্ড হসপিটাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় মহাখালী, ঢাকা’র ৩য় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ (৬-১৫ তলা নির্মাণ) এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উত্তর ও দক্ষিণ ব্লকের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে প্রত্যেক জেলায় হাসপাতাল, সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং দেশের সকল বিভাগীয় পর্যায়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। তাঁর সরকার মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়ায় আজকে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় হাসপাতালও গড়ে উঠেছে এবং মানুষকে সেবা দেওয়াই তাঁর সরকারের কর্তব্য, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষকে একটু সুন্দর ও উন্নত জীবন দান করবো, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন লাভ করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই উন্নয়নের ধারাকে ধরে রেখে ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এমিয়ার একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস এর সহযোগিতায় ‘ডেল্টা প্লান-২১০০’ প্রণয়ন করেছে বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং যার শুভফল আজকে দেশের মানুষ পাচ্ছে।
জাতির পিতা ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ পুনর্গঠনকালেই ৫ জন চিকিৎসককে পূর্ব জার্মানী পাঠান এবং বিদেশ থেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ডাক্তার আনেন। যার মধ্যে ডা. গার্ডস এর প্রচেষ্টাতেই এই পঙ্গু হাসপাতাল গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, অথচ এই হাসপাতালটির অত্যন্ত করুণদশা ছিল যেন দেখার কেউ নেই, আমরা হাসপাতালটির উন্নয়ন করি এবং নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করি। ২০০৯ সালে সরকারে এসেই আমরা প্রকল্প গ্রহণ করি এবং আজকে সেই প্রকল্প আমরা উদ্বোধন করলাম। যার ফলে মানুষের চিকিৎসা সেবা উন্নত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি আমাদের দেশের মানুষ এখানে এলেই চমৎকার চিকিৎসা পায় এবং এখানকার চিকিৎসকরা এত যতেœর সঙ্গে চিকিৎসা দেন। তিনি বলেন, তিনিও অনেককেই চিকিৎসার জন্য ‘নিটোর’ এ আসার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখানে এতভালো চিকিৎসা হয় এবং যখনই রোগী আসে আমরা দেখি এখানে খুব উন্নতমানের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের সময়পোযোগী যন্ত্রপাতির এখনও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। নানা ধরনের অসুবিধা, অতিরিক্ত রোগীর বোঝা এবং এত সমস্যার মধ্যেও এই যে মাথা ঠান্ডারেখে চিকিৎসা সেবাটা দেওয়ায় আমি সত্যই আমার চিকিৎসক এবং নার্সদের এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
‘এত অতিরিক্ত রোগীর চাপ মাথায় নিয়েও তাঁরা যে চিকিৎসা সেবাটা দেন, পৃথিবীর কোন দেশে কোন ডাক্তার, কোন নার্স এভাবে চিকিৎসা দেবে না, আমি বলতে পারি,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি পৃথিবীর বহু দেশ দেখেছি, বহু হাসপাতালে গিয়েছি, আমাদের দেশের মানুষের যে আন্তরিকতা আছে সেজন্যই আমি খুব আশাবাদি আজকে যে কয়টা প্রকল্প আমি উদ্বোধন করলাম তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ চিকিৎসা সেবাটা পাবে। তাঁর সরকার বার্ণ এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট করে দিয়েছে শীঘ্রই গ্যাষ্ট্রো এন্ট্রোলজি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ও উদ্বোধন হবে, জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে বলেন, আমাদেরতো আগে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে হবে নাহলে তাঁরা চিকিৎসা সেবাটা কি করে দেবেন। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমার স্বাস্থ্যখাতের এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি খুব আনন্দিত আজতে আমি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যে প্রকল্পগুলো আজকে উদ্বোধন করলাম এবং যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কলাম সেই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বাসস/এএসজি-এফএন/২২০৫/কেএমকে