সরকারের গণমুখী পদক্ষেপে উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গা দূর হয়েছে : খন্দকার মোশাররফ

285

ঢাকা, ৯ মে, ২০১৮ (বাসস) : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের গণমুখী পদক্ষেপে উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গা দূর হয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা চরাঞ্চলে উৎপাদিত দুধ সংরক্ষণের জন্য সেখানে দুধ শীতলীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গরু-ছাগলের মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি সুপারিশ করেছেন।
সিরডাপ মিলনায়তনে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া (আরডিএ) আয়োজিত ‘চর উন্নয়ন রিসার্চ সেন্টারের (সিডিআরসি) ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে চরাঞ্চলের অংশীজনেরা বক্তৃতাকালে এই সুপারিশ করেন।
এলজিআরডি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
চরাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ করা এই এলাকার মানুষের প্রধানতম সমস্যা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সেমিনারে বলেছেন, চরাঞ্চলে গরু থেকে যে দুধ উৎপাদন হয়, তা তারা ঠিক মতো বিক্রি করতে পারেন না। তাই চরাঞ্চলে দুধ শীতলীকরণের জন্য অতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, তাহলে এখানকার মানুষ ব্যাপক আকারে উপকৃত হবে। এছাড়া এখানে উৎপাদিত গরু-ছাগলের জন্য মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারলে অভ্যন্তরীণ মাংসের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও মাংস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অর্থনৈতিক মুক্তি ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে কোন মঙ্গা নেই, মঙ্গা দূর হয়েছে। চর লিভলিহুড প্রোগ্রাম (সিএলপি), একটি বাড়ি একটি খামারের মতো গণমুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশে দারির্দ্র বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আলোকে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িকে একটি খামার হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। একটি বাড়ি একটি খামার বর্তমান সরকারের তেমনই একটি গণমুখী প্রকল্প।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের প্রত্যেকটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দারিদ্য্র বিমোচন মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে, বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। কিন্তু এখনও চরাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার তুলনামূলক বেশী। বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা ৫ ভাগ চরাঞ্চলে বাস করে, যার বৃহৎ অংশ এখন দাারিদ্রের মধ্যে রয়েছে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি হ্রাসের জন্য রুরাল ডেভলপমেন্ট কোঅপারেটিভ ডিভিশন (আরডিসিডি), ডিএফআইডি, এইউএসএআইডি-এর সহযোগিতায় সিএলপি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০৪ থেকে ২০১৬ মেয়াদে ১০টি জেলার ৩৩টি উপজেলার ১২০টি চর ইউনিয়নের এক লাখ ৩৩ হাজার পরিবারকে সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে দারিদ্রমুক্ত করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে আরডিসিডি, আরডিএ যৌথভাবে সিএলপি প্রকল্পের সম্পদ হস্তান্তরের কার্যক্রমের ফলাফলের ভিত্তিতে এম৪সি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে। যা চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ, গুণগত কৃষি উপকরণের ব্যবহার ও গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এম৪সি প্রকল্পের আওতাধীন চরাঞ্চলের টেকসই বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ১০টি জেলায় ৯০ হাজার দরিদ্র পরিবারের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এস এম গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেনস্টিন, সিরডাপের মহাপরিচালক টেভিটা জি বসেওয়াকা টাগিনাভুলাও, সুইসকন্টাক্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর অনির্বান ভৌমিক প্রমুখ বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়ার (আরডিএ) মহাপরিচালক প্রকৌশলী এম এ মতিন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সিডিআরসির পরিচালক ড. মো. আব্দুর রশিদ।