বাসস ক্রীড়া-১৩ : কক্সবাজার পর্বেও বাড়তি রোমাঞ্চ স্থানীয় চার ফুটবলার

237

বাসস ক্রীড়া-১৩
ফুটবল-বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ-কক্সবাজার
কক্সবাজার পর্বেও বাড়তি রোমাঞ্চ স্থানীয় চার ফুটবলার
কক্সবাজার, ৮ অক্টোবর ২০১৮ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল স্কোয়াডে সিলেটের মত কক্সবাজারেরও রয়েছে চার কৃতি ফুটবলার। যেখানে প্রথমবারের মত আয়োজন করা হচ্ছে জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। এর আগে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বলতে সাফ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল কক্সবাজারে। তবে জাতীয় দলের কোন টুর্নামেন্ট এটিই প্রথম।
পর্যটন নগরীতে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে এমনিতেই উত্তেজনা বিরজ করছে স্থানীয় ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে। সেই সঙ্গে বাড়তি রোমাঞ্চ যুক্ত হয়েছে স্থানীয় চার ফুটবলারকে নিয়ে। জাতীয় দলের স্কোয়াডের হয়ে কক্সবাজার আসা স্থানীয় এই চার ফুটবলার হলেন মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ার তৌহিদুল আলম সবুজ, চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকার ইব্রাহিম, একই এলাকার সুশান্ত ত্রিপুরা এবং ডুলাহাজারা এলাকার বাসিন্দা আনিছুল ইসলাম জিকু।
আগামীকাল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনালে অংশ নিতে ইতোমধ্যে কক্সবাজার পৌঁছেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ সহ শেষ চারে ঠাই পাওয়া চার দল। আগামীকাল ৯ অক্টোবর বেলা আড়াইটায় ফিলিপাইন ও কাজাকিস্তান দলের খেলার মধ্য দিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি লাভ করবে কক্সবাজারের বীর শ্রেষ্ট রুহুল আমীন স্টেডিয়াম। একই মাঠে ১০ অক্টোবর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিন। এতে বাংলাদেশের জাতীয় দলের পক্ষে কক্সবাজারের ৪ জন স্থানীয় খেলোয়াড়কে মাঠে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় দর্শকরা। যদিও চার জনের সবাই মুল একাদশে খেলতে পারবেন কিনা সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল সাজাবেন কোচ জেমি ডে।
এদিকে ছেলের খেলা দেখতে এক দিন আগে থেকেই স্বপরিবারে কক্সবাজার শহরে এসে পৌঁছেছেন সবুজের পিতা আলহাজ বদরুল আলম আনছারী। তিনি বলেন,‘আমার ছেলেকে প্রথম বারের মত আন্তর্জাতিক ফুটলব ম্যাচ খেলতে দেখবো এটা আমার খুব ভাল লাগছে। আগে তাকে টিভিতে দেখেছি, তবে এখন সরাসির দেখবো। এ জন্য এলাকার অনেক মানুষ আমাদের সাথে এখানে এসেছে।’
আরেক স্থানীয় তারকা ইব্রাহিমের পিতা মোঃ ইয়াছিন বলেন, ‘আমার ছেলে এবারই প্রথম কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছে, এটা ভাবতেই আমার চোখে পানি চলে আসে। চকরিযা থেকে তার অনেক বন্ধু বান্ধব সহ পরিবারের সবাই এসেছে খেলা দেখতে। আমি বিশ্বাস করি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতবে।’
কক্সবাজার স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে লোকাল হিরো ইব্রাহিম বলেন, ‘আগেও বহুবার কক্সবাজারে এসেছি, তবে এবারের আসার অনুভূতি অন্যরকম। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রথমবারের মত নিজের মাঠে এসেছি। চেস্টা করবো সর্বোচ্চটা দিতে। কারন আমাদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও আত্মীয় পরিজন আমার খেলা দেখার জন্য উগ্রীব হয়ে আছে। তাদের নিরাশ করতে চাইনা।’
আরেক কৃতি ফুটবলার তৌহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, ‘আমরা সিলেটেও ভাল খেলে সেমিফাইনালে উঠে কক্সবাজারে এসেছি। কক্সবাজারের (বীর শ্রেষ্ট রুহুল আমীন স্টেডিয়াম) মাঠে আমাদের খেলার ভাল অভিজ্ঞতা রয়েছে, আসা করছি নিজেদের মাঠে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটি আমরা জয় করতে পারব। যেহেতু আমি আক্রমনভাগে খেলি। তাই গোল দিয়েই এই মুহুর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।’
সুশান্ত ত্রিপুরা ও আনিসুর রহমান জিকু বলেন,‘আমরা নিজেরাই খুব এক্সসাইটেড। কারন নিজের মাঠে খেলবো। আমরা জীবনের সব চেয়ে ভাল খেলা কক্সবাজারের মাঠে খেলতে চাই।’ ম্যাচে জয়ের জন্য জেলাবাসির দোয়া কামনা করেছেন স্থানীয় এই চার ৪ কৃতি ফুটবলার।
বাসস/এএসজি/এমএইচসি/১৯২০/স্বব