রোমার কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে লিভারপুল

381

রোম, ৩ মে ২০১৮ (বাসস/এএফপি) : স্বাগতিক রোমার কাছে হারের পরও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব লিভারপুল। বুধবার রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোয় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফিরতি পর্বের সেমি-ফাইনালে ইতালীয় জায়ান্ট রোমার কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়েছে ইংলিশ জায়ান্টরা।
কিন্তু প্রথম লেগে লিভারপুল ৫-২ গোলে এগিয়ে থাকায় শেষ রক্ষা হয়নি সিরি এ লীগের ক্লাবটির। দুই লেগের ফলাফলের ভিত্তিতে রোমাকে ৭-৬ গোলের ব্যাবধানে পিছনে ফেলে ২০০৭ সালের পর ইউরোপীয় আসরের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল লিভারপুল। ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের। আগামী ২৬মে ইউক্রেনের কিয়েভে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ।
এই নিয়ে অষ্টম বারের মত ইউরোপীয় কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে লিভারপুর। যে ম্যাচে ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ১৯৮১ সালের ইউরোপীয় কাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। ওই ফাইনালে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে।
হোম ম্যাচে ৫-২ গোলে এগিয়ে থাকার বাড়তি সুবিধা নিয়ে বুধবার ইতালীর রাজধানীতে লড়াইয়ে নামে জার্গেন ক্লপের দল। শুরুতেই দুই দুইবার লীড নিয়ে আরো পিছিয়ে দেয় স্বাগতিকদের। তবে জয়ের জন্য মরিয়া রোমা শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেছে ঠিকই। কিন্তু একেবারেই মুছে দিতে পারেনি পুর্বের ম্যাচের সমীকরণ। তাই অল্পের জন্য তারা বঞ্চিত হয়েছে ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে। পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে রোমা এক প্রকার অসাধ্যই সাধন করেছে। জয় তুলে নিয়েছে ৪-২ গোলের। শেষ মুহুর্তে রাদজা নাইনগোলানের জোড়া গোলে জয় নিশ্চিত করা রোমা আর মাত্র একটি গোল পেলেই লিভারপুলের সঙ্গে সমতায় পৌঁছাতে পারতো। কিন্তু সেটি আর সম্ভব হয়নি।
নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের ভুলের সুযোগে এগিয়ে যায় লিভারপুল। মাঝমাঠে রাদজা নাইনগোলানের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে সেটি সতির্থ খেলোয়াড় সাদিও মানের দিকে বাড়ান রবার্তো ফিরমিনো। বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে গোল করেন মানে (০-১)।
এতে আরো কোণঠাসা হয়ে পড়া রোমা অল্পক্ষনের মধ্যেই স্বাস্তি ফিরে পায়। ম্যাচের ১৫তম জেমস মিলনারের আত্মঘাতী গোল তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে দেয়। এল শারারির ক্রস ঠেকাতে পাল্টা শট নেন সফরকারী ডিফেন্ডার লোভরেন। কিন্তু বলটি সতীর্থ মিডফিল্ডার জেমস মিলনারের গায়ে লেগে নিজেদের জালে ঢুকে যায় (১-১)।
তবে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় লিভারপুল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হয় রোমা। উল্টো এডিন জেকোর হেডে গোলমুখে বল পেয়ে যান জর্জিনিও ভিনালডাম। যেটি অনায়াস লক্ষ্যভেদ করেন এই ডাচ মিডফিল্ডার (১-২)। এতে অনেকটাই হতাশা নেমে আসে স্বাগতিক শিবিরে।
অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার নড়েচড়ে বসে রোমা। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে এল শারারির শট লিভারপুলের গোলরক্ষক লোরিস কারিয়াস ফিরিয়ে দেয়ার পর ফিরতি বল ধরে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জেকো (২-২)। স্বস্তি ফিরে পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে সফরকারীদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে রোমা। এসময় বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে এক মুহূর্তের জন্যও হাল ছাড়েনি ইতালীয় ক্লাবের খেলোয়াড়রা। এর সুফল পেয়েছে অবশ্য একেবারেই অন্তিম মুহূর্তে।
৮৬তম মিনিটে বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার নাইনগোলানের দূরপাল্লার শটের বল পোস্টে লেগে লিভারপুলের জালে প্রবেশ করলে নাটকীয়ভাবে লীড পেয়ে যায় রোমা (৩-২)। অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে ফের গোল করে জয়ের ব্যবধান আরো বাড়িয়ে দেন এই বেলজিয়ান (৪-২)।
খেলা শেষে লিভারপুলের কোচ ক্লপ বলেন, ‘এই প্রথম আমরা যতটুকু সম্ভব ভাল অবস্থান ধরে রেখেছি। আমাদের ভাগ্য সহায়তার প্রয়োজন ছিল। যেটি আমরা পেয়েছি। আমরা কোয়ালিফাইয়ার হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ছিলাম। এখন আমরা ফাইনালে, কিয়েভ সফর করবো।’
ফাইনালে ১২ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে হুমকিই মনে করছেন ক্লপ। বলেন, ‘আমাদেরকে আজ রাতের চেয়ে অনেক বেশি ভাল খেলতে হবে। সুখবর হচ্ছে আজকের তুলনায় আরো ভাল খেলার যোগ্যতা আমাদের আছে।’