বাসস দেশ-১৪ : চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে

82

বাসস দেশ-১৪
আদালত-আদেশ
চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ (বাসস) : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই যুক্তিতর্ক শুনানি তথা বিচার চলবে বলে আদেশ দিয়েছে আদালত।
রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ আদালত আজ এ আদেশ দেয়।একই সাথে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর এ মামলার পরবর্তি দিন ধার্য করা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুঁলি এডভোকেট মোশররফ হোসেন কাজল বাসস’কে বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে বলে আদেশ দিয়েছে আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আইন অনুযায়ি তার (খালেদা জিয়া) হাজিরা দাখিল করবেন।
এর আগে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল গত ১২ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সেদিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। তার পরিবর্তে খালেদার কাস্টডি আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে ‘অনিচ্ছুক’। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বরও খালেদার ‘অনিচ্ছা’র কথা জানিয়ে একই কাস্টডি পাঠানো হয় আদালতে। সেদিন মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে কি-না, এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজ ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
আজ আদেশে আদালত বলেন, মামলাটায় পৌনে দুই বছর যাবত যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে আছে, খালেদা জিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির হচ্ছেন না। মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। অন্য আসামিরাও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই অন্যান্য আসামীর পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য আইনজীবীদের নির্দেশ দেন আদালত।
গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়ে বলেন,অসুস্থতার কারণে তিনি আর আদালতে হাজির হতে পারবেন না। ওইদিন তার আইনজীবীরাও উপস্থিত হননি আদালতে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিভাগ চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার সম্পন্ন করতে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে গেজেট প্রকাশ করে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওই গেজেটে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত থেকে নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর-৭ কে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে সেখানেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হবে।
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন। খালেদা ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন সাক্ষী। ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। এ ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে এ মামলা করে দুদক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে এখন পুরতান কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন বেগম খালেদা জিয়া।
বাসস/এএসজি/ডিএ/১৭৪০/কেএমকে