বাসস সংসদ-১৩ : সংসদে সড়ক পরিবহন বিল, ২০১৮ পাস

643

বাসস সংসদ-১৩
বিল-পাস
সংসদে সড়ক পরিবহন বিল, ২০১৮ পাস
সংসদ ভবন, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশ ১৯৮৩ রহিত করে সময়ের চাহিদার প্রতিফলনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নে প্রয়োজনীয় বিধান করে আজ সংসদে বহু প্রতীক্ষিত সড়ক পরিবহন বিল, ২০১৮ সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।
বিলে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত তারিখে এ বিলের বিধান কার্যকর করার বিধান করা হয়।
১৭৭টি ধারা ও ১২টি তফসিল সম্বলিত মোটর ভেহিকেল অধ্যাদেশ, ১৯৮৩-এর স্থলে যুগোপযোগী করে ১৪টি অধ্যায়ে ১২৬টি ধারা সমন্বয়ে সড়ক পরিবহন বিল, ২০১৮ এ নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়।
বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ক্ষেত্রমতে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া অথবা মেয়দোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে কোনো মোটরযান চালাতে বা চালানোর অনুমতি না দেয়ার বিধান করা হয়। বিলে লাইসেন্স দেয়া, নবায়ন, ঠিকানা পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মোটরযান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, বিদেশী নাগরিকের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বিষয়েও সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়।
বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১২ পয়েন্ট বরাদ্দ করে চালকের অপরাধ সংঘটনের কারণে পয়েন্ট কর্তনের বিধান করা হয়। বিলে লাইসেন্স স্থগিত, বাতিল, প্রত্যাহার, লাইসেন্সধারীকে অযোগ্য ঘোষণার বিধানেরও প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া বিলে মোটরযান চালকের নিয়োগে সুনির্দিষ্ট শর্তারোপের বিধানের প্রস্তাব করা হয়।
বিলে মোটরযানের কন্ডাক্টর লাইসেন্স, কন্ডাক্টর নিয়োগের বিধান করা হয়েছে।
বিলে মোটর রেজিস্ট্রেশন, অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন, রেজিস্ট্রেশনের স্থান, ভূয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ও প্রদর্শনে বিধি-নিষেধ, মোটরযান প্রদর্শন, মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন, লীজ বা কিস্তিতে ক্রয় চুক্তি, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত, বাতিল, মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন,যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠন, রুট পারমিট, রুট পারমিট থেকে অব্যাহতি, মোটরযানের বাণিজ্যিক ব্যবহার, সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণে সরকারের ক্ষমতা, মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারণ, গণপরিবহনের আসন সংখ্যা ও ভাড়া নির্ধারণ, কন্ট্রাক্ট ক্যারিজের মিটার, ভাড়া, ইকনোমিক লাইফ নির্ধারণ, মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, টার্মিনাল উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং চাঁদাবাজি নিষিদ্ধকরণ, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, মোটরযানের নির্মাণ, সরঞ্জাম বিন্যাস ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক সাইন ও সংকেতের ব্যবহার, এক্সেল ওজন, ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণ, মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণকারী, ঝুঁকিপূর্ণ ইত্যাদি মোটরযান চালনার বিধি-নিষেধ, মোটরযান পার্কিং ও থামোনার স্থান, মহাসড়কের ব্যবহার, মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলী, কতিপয় ক্ষেত্রে দায়ী কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, দাহ্য পদার্থ, ইত্যাদি পরিবহনে সতর্কতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, আর্থিক সহায়তা তহবিল, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, বোর্ডের কার্যাবলী ও ক্ষমতা, বোর্ডের সভা, আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন, হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা, আর্থিক সহায়তার আবেদন, যাত্রী বা মোটরযানের বীমা, সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিকিৎসা, মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল, মোটরযান মেরামত কারখানা, মোটরযান ডাম্পিং ইয়ার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।
বিলে বিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংঘটিত অপরাধে সুনির্দিষ্ট দন্ডের বিধান করা হয়েছে।
বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান ও গণপরিবহন চালনার অপরাধে অনধিক ৬ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স হস্তান্তর সংক্রান্ত অপরাধের জন্য অনধিক ১ মাসের কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশী নাগরিকের এ বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে অনধিক ৩০ হাজার অর্থদন্ডে দন্ডিত করা, ভুয়া লাইসেন্স প্রস্তুত নবায়নের ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর অন্যুন ৬ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা, অন্যুন ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত করার বিধান করা হয়েছে।
এছাড়া বিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত, প্রত্যাহার, বাতিল করার পর তা লংঘন, লাইসেন্স ব্যতিত কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরযান চালনা, ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার বা প্রদর্শন, মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরে বিধান লংঘন, ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার, ট্যাক্স টোকেন সংক্রান্ত বিধি লংঘন, রুট পারমিট বিধি লংঘন, বাণিজ্যিক ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান লংঘন, ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়ার দাবি সংক্রান্ত অপরাধ, মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, তাৎক্ষণিক অপসারণ সংক্রান্ত বিধান লংঘন, চাঁদাবাজি নিষিদ্ধকরণ বিধান লংঘন, ট্রাফিক সাইন-সংকেতের বিধান লংঘন, অতিরিক্ত ওজন বহন করা, মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধান লংঘন, পরিবেশ দূষণকারী ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালনা সংক্রান্ত অপরাধ, পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার বিধান লংঘন, বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ পরিবহন সংক্রান্ত অপরাধ, দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত ধারা লংঘনসহ অন্যান্য অপরাধের পৃথক পৃথকভাবে সুনির্দিষ্ট দন্ডের বিধান করা হয়েছে।
বিলে বলা হয়, এ বিয়ে যা কিছুই থাকুক না কেন, মোটরযান চালনাজনিত কোন দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হলে বা তার প্রাণহানি ঘটলে, তৎসংক্রান্ত অপরাধসমূহ প্যানেল কোডের এতদ্্সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে প্যানেলের কোডের ধারা ৩০৪বি-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হলে বা তার প্রাণহানি ঘটলে, ওই ব্যক্তি অনধিক ৫ বছর কারাদন্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। একই ধরনের অপরাধ কোম্পানির ক্ষেত্রে সংঘটিত হলেও সুনির্দিষ্ট দন্ডের বিধান করা হয়।
বিলে পরিবহন সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য বিশেষ পদ্ধতি, পরোয়ানা ব্যতিত গ্রেফতারের ক্ষমতা, মোটরযানের কাগজপত্র আটকের ক্ষমতা ও কাগজপত্র পরীক্ষা করা, অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা, আপসযোগ্যতা, অপরাধের তদন্ত বিচারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, সেলিম উদ্দিন, নূরুল ইসলাম মিলন, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বেগম রওশন আরা মান্নান ও বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে ৪টি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বাকী প্রস্তাবগুলো কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বাসস/এমআর/২১৩০/বেউ/-আসচৌ