বাসস দেশ-২৯ : হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

29

বাসস দেশ-২৯
টিপু মুনশি-কর্মশালা
হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী
ঢাকা, ২০ জুন, ২০২১ (বাসস) : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিমূখী করা সম্ভব হলে দেশে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হবে ও রপ্তানির ক্ষেত্রে একক পণ্যের উপর চাপ কমবে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সরকার এ খাতটিকে রপ্তানিমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন’ বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ে পরামর্শক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে ভার্চ্যুয়ালি এই পরামর্শক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিষয়ের উপর খসড়া নীতিমালা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কারিগরি এডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
টিপু মুনশি বলেন, সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী বাহিনী সৃষ্টির মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন ও পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এই শিল্পের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের উন্নয়নে এই খাতের সকল উদ্যোক্তাদের পরামর্শ নিয়েই সরকার পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে চায়। এর পথনকশা তৈরিতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরে বড় বাজার গড়ে উঠেছে বিধায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে ‘বর্ষপণ্য-২০২০’ ঘোষণা করেছেন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে খাতটির উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। সে দিন বেশি দূরে নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পসহ আইসিটি, প্লাস্টিক, কৃষি ও চামড়া শিল্পকে রপ্তানি সক্ষম করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যেখানে উদ্যোক্তা-শ্রমিক কর্মচারির দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও মানোন্নয়নের পাশাপাশি অন্যান্য বিনিয়োগে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেয়া হচ্ছে।
পরামর্শক কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও ইসিফোরজে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের কো-অডিনেটর মো. আব্দুল রহিম ও বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন।
বাসস/আরআই/১৭৫০/কেকে