ভোলায় অত্যাধুনিক মহিষের কিল্লা স্থাপন

95

ভোলা, ২০ জুন, ২০২১ (বাসস) : জেলায় এ প্রথম অত্যাধুনিক মহিষের বাসস্থান বা কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার চর চটকিমারায় নির্মিত মহিষের আধুনিক কিল্লাটি সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর ফলে সৃষ্ট প্লাবনে মহিষের নিরাপত্তার পাশাপাশি রাখালদের নিরাপত্তা প্রদানে সক্ষম হয়েছে। নির্মিত কিল্লাটি ভূমি থেকে ৭ফুট উচ্চতায় হওয়ায় বন্যার পানি কিল্লাটিতে প্রবেশ করতে পারেনি, ফলে খামারিদের মহিষ এ বন্যায় ছিল সম্পূর্ণ নিরাপদ।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় জেলায় মহিষের পরিবেশগত ও টেকসই উন্নয়নে সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট’র আওতায় কিল্লাটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)।
সংস্থার উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ খলিলুর রহমান জানান, কিল্লাটিতে রাখালদের জন্য রয়েছে নিরাপদ বাসস্থান, সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য রয়েছে কম্পোস্ট পিট।
চর চটকিমারার মহিষ খামারী নাজিম উদ্দিন, আলা আমিন, হানিফ হাওলাদার ও নুরুল ইসলাম জানান, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের সময় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলেও আমাদের মহিষগুলো এ কিল্লায় নিরাপদে রাখতে পেরেছি। মহিষ ভেসে যায়নি, পাশাপাশি আমরাও এ কিল্লায় নিরাপদ আশ্রয় নিতে পেরেছি। এর আগে আমাদের কোনো আধুনিক কিল্লা ছিল না, বন্যার সময় মহিষ ভেসে যাওয়ায় অনেক আর্থিক ক্ষতি হতো।
তারা জানান, চরে আমাদের জন্য কোন নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পায়খানার ব্যবস্থা ছিলনা, কিন্তু এ প্রজেক্ট থেকে আমাদের যে এ আধুনিক কিল্লাটি দেয়া হয়েছে তাতে আমরা এ সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি। প্রোজেক্টের অন্তর্ভুক্ত খামারিদের পাশাপাশি অন্যান্য খামারিরাও এ বন্যার সময় তাদের মহিষগুলো কিল্লায় রাখতে পেরে চিন্তামুক্ত ছিল।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন জানান, আরো কয়েকটি চরে আধুনিক কিল্লার নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যাতে করে মহিষ খামারিরা কোন ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং রাখালরাও নিরাপদ থাকতে পারে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা: ইন্দ্রজীৎ কুমার মন্ডল বলেন, জেলায় এ প্রথম আধুনিক কোন মহিষের কিল্লা স্থাপন করা হলো। এছাড়া জেলার ৫০ টি চরে ৫০ টি মুজিব কিল্লা নির্মাণের জন্য আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এগুলো হলে মহিষ পালনে দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পাবে খামারিরা।