বাসস ইউনিসেফ ফিচার-১ : করোনায় গর্ভবতী নারীর করণীয়

35

বাসস ইউনিসেফ ফিচার-১
করোনা-অন্ত:সত্ত্বা
করোনায় গর্ভবতী নারীর করণীয়
ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২১ (বাসস) : করোনা মহামারিতে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। বিশ্বের এমন কোন স্থান নেই যেখানে করোনার ছোবল লাগেনি। এক বছরের বেশি সময় আমাদের দেশও করোনা মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে যে দ্বিতীয় ঢেউ চলছে তাতে অপেক্ষাকৃত কম কয়স্ক তরুণ-যুবারাও অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন, কেউ কেউ জটিলতায়ও পড়ছেন। এবার পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও বেশী সংখ্যক আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এই কম বয়সী নারীদের মধ্যে অনেকেই গর্ভবতী কিংবা গর্ভ ধারণ করতে যাচ্ছেন। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে এ সব নারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ অতিমারির সময়ে গর্ভ ধারনের বিষয়ে অনেক কিছুই চিন্তাভাবনা করতে হবে।
অনেকেই হয়তো এই সময়ে সন্তান ধারণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এ বিষয়ে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক রওশন আরা বেগম বলেন, এই অতিমারি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সন্তান সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখাই ভাল। করোনার সংক্রমণ গর্ভবতী নারী বা অনাগত সন্তানের ক্ষতি করে বলে যদিও এখনো প্রমাণিত হয়নি। তারপরও এ সময় পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই ভাল। তিনি বলেন, তবে ফুসফুস ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হওয়া, অক্সিজেন কমে যাওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য ঝুঁকি অন্য সকলের মতই রয়েছে। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বিভিন্ন রোগে আগে থেকেই ভুগছেন। তারপরও স্বাস্থ্য সেবার ওপর অনেক বেশি চাপ, পরিবহন সংকট , বাইরে বের হলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সব মিলিয়ে বর্তমান সময়টা গর্ভ ধারণের জন্য খুব একটা ভাল নয়। সম্ভব হলে অন্য সময় গর্ভ ধারণটাই ভাল।
গর্ভধারণের শুরু কিংবা মাঝামাঝি সময়ে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা ব্যবস্থা অন্য রোগীর মতই হবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে মেডিসিন ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞেরও পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকরা রোগের তীব্রতা অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন। অবশ্যই নিজে নিজে, কারো পরামর্শে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখে কোন ওষুধ সেবন করা যাবেনা। গর্ভকালে করোনা হলে প্রয়োজনে বিশেষ শিল্ড ব্যবহার করে বুকের এক্সরে বা সিটি স্ক্যান করতেও কোন বাধা নেই।
গাইডলাইনে নির্দেশীত চিকিৎসা, যেমন ষ্টেরয়েড বা ডেক্সামেথাসোন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ ইনোক্সাপাইরিন প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শে এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যাবে। মৃদু মাত্রার রোগীরা বাড়ীতে থেকেই সেবার মাধ্যমে সেরে উঠবেন। তবে অক্সিজেন কমে গেলে বা শ্বাস কস্ট হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। করোনা সংক্রমণ হলেও গর্ভ ধারন চালিয়ে যেতে কোন সমস্যা নেই। মা নিজে সুস্থ হয়ে উঠলে বেশির ভাগই সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারবেন। তবে গর্ভধারণের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখাই ভাল। সিজারের সময় দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া সম্ভব, যাতে এর মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। আর যদি প্রসববেদনা শুরু হয়ে যায় বা পানি ভেঙ্গে যায় বা জরুরী পরিস্থিতি সৃস্টি হয়, তবে আর দশ জন মায়ের মত স্বাভাবিক প্রসব বা সিজারিয়ান করা যেতে পারে, তবে সব সতর্কতা অবলম্বন করে। করোনা হলে সিজার করতে হবে-তা নয়। স্বাভাবিক প্রসবও সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অপারেশন থিয়েটার বা লেবার রুমে সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউএর এই সময় অন্তসত্ত্বা নারীকে বাড়ীতে খুবই সাবধানে রাখা উচিত। মাস্ক পড়া, স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। এসময়ে অকারণে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে নিজেকে তার থেকে আইসোলেশন রাখুন এবং মাস্ক পড়ে থাকুন। গর্ভকালীন সময়ে যে ৮ বার প্রসব পূর্ববর্তী চেক আপ প্রচলিত আছে করোনাকালে তার ৪টি ভার্চুয়ালি করার পক্ষে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
শারীরিক যে কোন সমস্যার আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে টেলিফোনে বা অনলাইনে পরামর্শ করুন। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, স্বাদহীনতা, দুর্বলতা ইত্যাদি যেকোনা উপসর্গে দ্রুততম সময়ে করোনা পরীক্ষা করিয়ে রাখুন। আর সন্তান প্রসবের সময় এগিয়ে এলে তার আগেও একবার করোনা পরীক্ষা করতে হবে। বাড়িতে পুষ্টিকর খাবার খান, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করে শরীরিকভাবে ফিট থাকুন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেবেন না। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। ইমিনিউটি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলো পালন করুন।
বাসস/ইউনিসেফ/এসডিজি/মহ/০৯৫০/এবিএইচ