বাসস প্রধানমন্ত্রী-২ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) : ইসলামের মর্মবাণী ছড়িয়ে সমাজকে ব্যাধি মুক্ত রাখতেই এই মডেল মসজিদ : প্রধানমন্ত্রী

78

বাসস প্রধানমন্ত্রী-২ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
শেখ হাসিনা-মসজিদ-ভাষণ
ইসলামের মর্মবাণী ছড়িয়ে সমাজকে ব্যাধি মুক্ত রাখতেই এই মডেল মসজিদ : প্রধানমন্ত্রী

ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী প্রচারে এই মসজিদগুলো ভূমিকা রাখবে বলে ভাষণে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের মর্মবাণী যেন এদেশের মানুষ জানতে পারে, বুঝতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ^াস করি, স্ব-স্ব ধর্ম যতœ সহকারে লালন পালন করি এবং সংরক্ষণ করি। ইসলাম আমাদেরকে সেই মানবতার শিক্ষাই দিয়েছে।’
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজর ধর্মপ্রাণ খাঁটি মুসলমান ছিলেন,’ উল্লেখ করে তাঁর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সকল ধর্মের প্রতি মর্যাদা যেমন দেখিয়েছেন। তেমনি মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।
জাতির পিতা ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করেন। রেসকোর্স ময়দানে ঘোড়দৌড় ও জুয়া বন্ধ করেন, আইন করে মদ নিষিদ্ধ করেন। টঙ্গিতে বিশ্ব এজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ ও কাকরাইলে তাবলীগের মারকাজ মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদান করেন, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের শুরু এবং সমাপ্তিতে কোরআন তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং এ দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে জাতির পিতা ওআইসি সম্মেলনেও যোগদান করেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির পিতা বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা আর নয়। ধর্মের নামে শোষণ উৎপীড়ন আর চলবে না। রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মকে টেনে এনে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা আর কেউ করতে পারবে না। এরপরও যদি কেউ ধর্মকে মূলধন করে ব্যবসায় নামেন, তবে তাকে সমুচিত ফল ভোগ করতে হবে। এ দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সবাই তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অধিকার পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারবে। কারও ধর্মীয় অধিকারে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এটাই বিশ^াস করতেন এবং আমাদের সংবিধানে যে ধর্ম নিরপেক্ষতা দিয়েছেন তার অর্থ হচ্ছে- যার যার ধর্ম সে সে স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন।
স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারের দিকে ইঙ্গিত করে এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা দিয়ে ধর্মকে কিন্তু তিনি নিষিদ্ধ করেননি। বরং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইসলামি মূল্যবোধের দেশ। কাজেই, এখানে সেই চর্চা যাতে ভালভাবে হয়, ইসলামী সাংস্কৃতির বিকাশ যেন হয়, ইসলামের মর্মবাণী মানুষ যেন বুঝতে পারে- সেটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে ‘জাতীয় হজনীতি’ প্রণয়ন করে হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, হজ যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অংশের ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করা, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিমানের হজ পূর্ববর্তী খালি ফ্লাইটে জমজমের পানি ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করাসহ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম সংস্কার এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ইসলামের খেদমতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং ইসলামিক মিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। তাছাড়া, হাওড় এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের উদ্বুদ্ধকরণ প্রকল্প, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প এবং মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে এবং ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ঋণ ও অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।
পাশাপাশি, কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স-এর সমমান প্রদানসহ লাখ লাখ আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদানে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাসস/এএসজি-এফএন/১৭০০/-আরজি