বাসস দেশ-১৬ (লিড) : সারাদেশে ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

31

বাসস দেশ-১৬ (লিড)
সারাদেশ-ঈদ-নামাজ
সারাদেশে ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত
ঢাকা, ১৪ মে, ২০২১ (বাসস) : ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সারাদেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাসস সংবাদদাতারা জানান-
সিলেট : সকালে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সিলেটের মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্টিত হয়। নামায শেষে প্রতিটি মসজিদে মুসল্লিরা বর্তমান করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসীকে রক্ষা, সর্বত্রে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহর কাছে কান্নাজুড়ে বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন।
এবারে নামায শেষে মসজিদ গুলোতে মানুষজনের মধ্য ঈদের কোলাকুলি করতে কম দেখা যায়। সকাল ৭টায় সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র কালেক্টরেট মসজিদে নগরীর প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।,পরে ওই মসজিদে ঘন্টার ব্যবধানে আরও ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্টিত হয়।
সকাল সাড়ে সাতটায় নগরীর হাজী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়,পরে যেখানে ঘন্টার ব্যবধানে আরও ৩ টি ঈদের জামাত অনুষ্টিত হয়,এতে অংশ নেন মুসল্লিরা। সকাল সাড়ে ৮ টায় সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার মসজিদেও অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। এছাড়া গাজী বুরহান উদ্দিন (রহ.) মাজার মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্টিত হয়,উক্ত মসজিদে একটিমাত্র জামাত হয়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে সাস্হবিধি মেনে এবারের ঈদ জামাত শেষে মসজিদ ও মসজিদে আঙ্গিনা সহ অন্নান্য স্থানে ঈদের কোলাকুলি সহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় ছিলো মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও মানুষের মধ্যে সতর্কতা।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি বিধিনিষেধে সিলেটের প্রধান ঈদগাহসহ শাহী ঈদগাহসহ জেলার ৫২০ ঈদগাহে এবার ঈদের জামাত হয়নি। এবারে ঈদের নামাজের মসজিদ গুলোতে প্রতিজনই স্ব-স্ব জায়নামাজ নিয়ে নামাযে যেতে দেখা যায়। এমনকি অনেক জায়গায় মুসল্লিদের হ্যান্ড স্যানিটাইজ করিয়ে মসজিদে প্রবেশ করানো হয়। নামায শেষে প্রতিটি মসজিদের মোনাজাতে বর্তমান করোনা মহামারীতে রক্ষা পেতে এবং বাংলদেশ সহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) জানিয়েছে, সিলেট মহানগরীর ৬টি থানা এলাকার প্রায় ১ হাজার ১০০ মসজিদে এবার ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতকে ঘিরে তিন ভাগে বিভক্ত করে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল পুলিশ সদস্যারা।
সব মিলিয়ে এবারে সিলেটে খুবই শান্তিপুর্ণ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সকল মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।
যশোর : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকাল ৮টায় যশোরে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় যশোর কালেক্টরেট মসজিদে। করোনার পরিস্থিতির কারণে এ একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের অন্যান্য মসজিদগুলোতে একইভাবে নামাজ আদায় হয়েছে। অন্যবছরের মতো ঈদের জামাতে বৃদ্ধ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ছিল না নামাজ শেষে অতি পরিচিত কোলাকুলির দৃশ্য। নামাজ আদায়ের আগে মুসল্লিরা নিজেদের জায়নামাজ সাথে নিয়ে আসেন পাশাপাশি জীবানমুক্ত হয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে তারা শারিরীক দুরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধ হয়ে বসেন। খুৎবা শোনেন এবং নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে করোনা ভাইরাস থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এবং নামাজ শেষে মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করেন। এসময় চির পরিচিত কোলাকুলির দৃশ্য চোখে পড়েনি। প্রথম জামাতের পর মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের জন্য জীবানুনাশক ছিটিয়ে মসজিদ জীবানুমুক্ত করা হয়।
রাঙ্গামাটি : সকাল ৮টায় ও সকাল সাড়ে ৮টায় দু’দফায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় তবলছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। এছাড়া রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার ও বনরুপা, কাঠালতলী জামে মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদে ঈদ-উল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাঙ্গামাটিতে এ বছরও খোলা মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত না হয়ে স্ব-স্ব মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র মো. আকবর হোসেন চৌধুরীসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন রাঙ্গামাটি কালেক্টরেট জামে মসজিদে। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য মো. মুছা মাতব্বর ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসিন রোমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা রিজার্ভ বাজার জামে মসজিদসহ স্ব-স্ব এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
সাতক্ষীরা : সকাল ৭টা থেকে কোথাও ৯টায় জেলার বিভিন্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। করোনা পরিস্থিতির কারণে সাতক্ষীরা সদরে ঈদগাহগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। করোনার কারণে এবার কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকে মুসল্লিরা। নামাজের আগে খুতবা পাঠ করা হয় এবং শেষে করোনা পরিস্থিতি থেকে সারা বিশ্বের মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহতাআলা’র দরবারে আর্জি জানিয়ে মোনাজাত করা হয়।
ময়মনসিংহ : সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান ঈদগাহ মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম জামাতে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদ এমপি, বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকসহ বিভাগীয়-জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিগন এ জামাতে অংশ গ্রহণ করেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন।এ ছাড়া নগরীর জামিয়া ইলামিয়া, চকবাজার জামে মসজিদ, মার্কাজ মসজিদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদ ও উপজেলার বিভিন্ন ঈদগাহে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
জয়পুরহাট : ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিনিকলে বরাবরের মতো দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭ টায় প্রথম জামাত ও ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও কেন্দ্রিয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮ টায়। এখানে ঈমামতি করেন জয়পুরহাট সিদ্দিকীয় মডেল কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মওলানা আব্দুল মতিন। পুলিশ লাইন মসজিদে সকাল ৯ টায়, রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিয়তে আহলে হাদিস মসজিদে সকাল সাড়ে ৭ টায়, পর্ব বাজার জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮ টায়, নতুনহাট বায়তুন মামুর মসজিদেও এবার সকাল ৭ টায় প্রথম জামাত এবং পরে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবার মুসল্লিরা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন বলে জানান, পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা। করোনা সংক্রমনের আশংকা থাকায় মসজিদের বাইরে খোলা মাঠ বা ঈদগাহে এবার কোন ঈদ জামাত হয়নি বলেও জানান তিনি। দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের আশায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
নড়াইল : সকাল ৭ টায় নড়াইল কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজের ইমামতি করেন নড়াইল কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মো. ওয়াকিউজ্জামান। এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সকাল সাড়ে ৭টায় সদর থানা মসজিদ, জমিদারবাড়ি ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, পুরাতন বাসাটার্মিনাল মসজিদ, রুপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি জামে মসজিদ, আলাদাতপুর জামে মসজিদ, ভওয়াখালী উত্তরপাড়া জামে মসজিদ, বিজয়পুর ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, ভাদুলীডাঙ্গা ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, জেলা কারাগার জামে মসজিদ, আবু হুরায়া(রা.) জামে মসজিদ ও উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ। সকাল ৮টায় রুপগঞ্জ বাজার জামে মসজিদ, পুলিশ লাইন জামে মসজিদ, বরাশুলা ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, মহিলা মাদরাসা ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, ভওয়াখালী ঈদগাহ ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, আনসার অফিস ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, কুড়িগ্রাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, মাছিমদিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন জামে মসজিদ, মহিষখোলা জামে মসজিদ ও পুরাতন রেজেষ্ট্রি অফিস জামে মসজিদ।
এছাড়াও ফেনী, লক্ষ¥ীপুর, কুমিল্লায় যথাযথভাবে ঈদেও নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাসস/এনডি/সংবাদদাতা/১৮০০/কেজিএ