কুমিল্লায় তিন সাথী ফসলের আগাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

172

কুমিল্লা (দক্ষিণ), ১৪ মে, ২০২১, (বাসস) : জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার কৃষকেরা তাদের জমিতে তিন সাথী ফসলের (ভুট্টা, ধনেপাতা, আলু) আগাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তারা ভুট্টা চাষের পাশাপাশি প্রতিটি জমিতে ধনেপাতা ও আলুর চাষ করে রীতিমতো কৃষি অঙ্গনে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি জমিতে আলু ও ধনেপাতার চাষও বেশ ভালো হয়েছে। এতে ধনেপাতা ও আলু বিক্রি থেকেই কৃষকের ভুট্টা চাষের খরচ উঠে আসে। তিন সাথী ফসলে লাভবান হওয়ায় কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। জেলার দাউদকান্দি, তিতাস, চান্দিনা, দেবীদ্বারসহ কয়েকটি উপজেলা এলাকা ঘুরে কৃষকের সঙ্গে কথা বলে তাদের সাফল্যের এসব বিষয় জানা গেছে।
সরেজমিন জেলার দাউদকান্দি উপজেলা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওই উপজেলার পাঁচগাছিয়া, দৌলতপুর, জিংলাতলী, মারুকা, মালিগাঁও, বারপাড়া, সুন্দলপুর, হরিপুর, ঢাকারগাঁও, গোয়ালমারী, রাঙ্গাশিমুলিয়া, ডাকখোলাসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ জুড়ে ভুট্টা আর ভুট্টা। এখন ভুট্টা সংগ্রহের উৎসব চলছে। প্রতিটি বাড়ির উঠানে, ঘরের চালায়, ভবনের ছাদে, স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসা ও মক্তবের মাঠে কৃষাণ-কৃষাণিরা ভুট্টা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা ফসলের মাঠে গিয়ে ভুট্টা সংগ্রহ করছেন। কেউ জ্বালানির জন্য ভুট্টার মোচা, ভুট্টার ছোবড়া ও ভুট্টাগাছ সংগ্রহ করছেন। আবার বসতবাড়িগুলোর উঠানে-উঠানে কেউ ভুট্টা শুকাচ্ছেন।
দেখা গেছে, ভুট্টা চাষের পাশাপাশি প্রতিটি জমিতে আলু ও ধনেপাতার চাষও করেছেন কৃষকেরা। আবদুর রাজ্জাক, মমিন মিয়া, মোবারক হোসেন, খলিলসহ অন্তত ১২ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা বাসসকে জানান, বীজ, চাষ, সার, কৃষিশ্রমিক ও পরিচর্যাসহ একই খরচে জমিতে ভুট্টার পাশাপাশি ধনেপাতা ও আলুর চাষ করা যায়। এতে ভুট্টা চাষের খরচ ধনেপাতা ও আলু বিক্রি থেকে উঠে আসে। এভাবে ভুট্টার আয়ের পুরোটাই তাদের লাভ হয়।
গোয়ালমারী গ্রামের কৃষক আজগর আলী বাসসকে বলেন, তিনি সাড়ে ১২ বিঘা জমিতে অগ্রহায়ণ মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথমে ধনেপাতা বপন করেন। একই জমিতে পৌষ মাসের প্রথম সপ্তাহে বপন করেন ভুট্টা। ধনেপাতা বিক্রির পর একই জমিতে মাঘ মাসের শেষ সপ্তাহে ভুট্টার সঙ্গে আলু চাষ করেন। আলু তোলার পর বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভুট্টা সংগ্রহ করেন। তিনি আরো বলেন, আবাদকৃত জমি থেকে ৮৫ হাজার টাকার ধনেপাতা এবং ৬৫ হাজার টাকার আলু বিক্রি করেন। সেখানে ১৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। আর বাজারে প্রতি মণ ভুট্টার দাম ৭৮০ টাকা। ভুট্টা বিক্রিতে এবার প্রায় আড়াই লাখ টাকা লাভ হবে। প্রতি বিঘা জমির ভুট্টাগাছ ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তিন সাথী ফসল (ভুট্টা, ধনেপাতা, আলু) আবাদে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় সব কৃষকই শতভাগ লাভবান হয়েছেন। ভুট্টা আগাম চাষ করা গেলে এবং ব্যবস্থাপনা ভালো হলে উচ্চ ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ব্যাপারে আমরা কৃষকদের পরামর্শসহ নানাভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।