চট্টগ্রামে মাঠের বদলে মসজিদে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি

86

চট্টগ্রাম, ১৩ মে, ২০২১ (বাসস) : চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠসহ নগরীর কোনো ঈদগাহ বা খোলা স্থানে এবার ঈদ জামাত হচ্ছে না। এর পরিবর্তে জমিয়তুল ফালাহসহ প্রতিটি ঈদগাহ মাঠের নিকটবর্তী মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজের জামাত আদায় করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
এদিকে, করোনা মহামারির কারণে উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে শুধুমাত্র মসজিদের অভ্যন্তরে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাসমূহ মেনে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের জন্য সকল মসজিদ কমিটিকে অনুরোধ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।
জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ ও বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে ঈদ জামাতের আয়োজন হতো প্রতি বছর। করোনার প্রকোপ শুরুর পর গতবছরও মাঠের পরিবর্তে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজের আয়োজন করা হয়। এবারও মাঠে ঈদ জামাত আয়োজন না করার নির্দেশনা দিয়ে প্রয়োজনে সংলগ্ন মসজিদে দুই বা ততোধিক জামাত আদায়ের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে আগামীকাল শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮ টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯ টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ’র পেশ ইমাম মাওলানা নূর মুহাম্মদ সিদ্দিকী।
লালদিঘি শাহী জামে মসজিদে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। সকাল ৮টায় সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ ও মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদে (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন) ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরের ৪১ টি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে একটি করে প্রধান ঈদ জামাত নিজ নিজ এলাকার মসজিদে আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
তবে ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য প্রতিটি মসজিদকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে মসজিদ কমিটিকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নামাজের পূর্বে পুরো মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করা এবং মসজিদে কার্পেট বিছানো থাকলে তুলে ফেলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মুসল্লিদের প্রত্যেককে বাসা থেকে ওজু করে জায়নামাজ নিয়ে আসা ও আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ঈদের নামাজ আদায়ের সময় পারস্পরিক দূরত্ব রক্ষা করা এবং শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে ঈদ জামাতে অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ঈদ জামাতশেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।