সুন্দরবনের আগুন ৪ দিন পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

173

বাগেরহাট, ৬ মে, ২০২১ (বাসস) : সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারনী এলাকার বনে দু’দফায় লাগা আগুন চতুর্থ দিন বৃহস্পতিবার বিকালে ৫টায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
আগুন আবারো ধোয়ার কুন্ডলী পাকিয়ে জ¦লে উঠলে তা দ্রুত নেভাতে মাটি খুড়ে রির্জাভারে পানি ভর্তি করে রাখা হয়েছে। গত চারদিন ধরে আগুনে বিশ^ ঐতিহ্যের এই সংরক্ষিত বনের ১০ একর জমির সুন্দরী, গেওয়া, গরাণ, কেওড়া গাছসহ লতাগুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শরণখোলা উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার জানান, সোমবার বেলা ১১টায় দাসের ভারনী এলাকার বনে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিটসহ বন বিভাগ ও সুন্দরবন সুরক্ষায় ভিটিআরসি টিমের সদস্যরা চতুর্থ দিন (বৃহস্পতিবার) বিকালে ৫টায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পর্যবেক্ষণে এই বনের ১০ একর জমির সুন্দরী, গেওয়া, গরাণ, কেওড়া গাছসহ লতাগুল্ম পুড়ে গেছে। তবে, কোন বন্যপ্রাণীর পুড়ে মারা যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা ফায়ার লইনের মধ্যে পুরো এলাকা পানি দিয়ে ভাসিয়ে দিয়েছি। তারপরও আগুন আবারো ধোয়ার কুন্ডলী পাকিয়ে জ¦লে উঠলে তা দ্রুত নেভাতে মাটি খুড়ে রির্জাভারে পানি ভর্তি করে রাখা হয়েছে। বন বিভাগকে শুক্রবার দিনভর অগ্নিকান্ডের স্থানকে পর্যবেক্ষণে রাখতে বলা হয়েছে। এই কর্মকতা আরো জানান, দূর্গম বনের ভিতর হওয়াসহ পানির উৎস কয়েক কিলোমিটার বন ও ঝোঁপঝাড় পেরিয়ে পানির পাইপ টেনেও প্রয়োজনী পানি পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনে বাঘ ও কিং কোবরার আতংকসহ আলো স্বল্পতার কারনে রাতে কাজ করতে না পারায় আগুন নেভাতে ৪দিন লেগেছে।
এদিকে সুন্দরবন বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবনে ১৬ বছরে ২৮ বার আগুন লেগে পুড়ে যায় প্রায় ৮০ একর বনভূমি। ২০১৭ সালের ২৬ মে পূর্ব সুন্দরবনে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন আব্দুুল্লাহর ছিলায় বড় ধরনের অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ওই আগুনে প্রায় পাঁচ একর বনভূমির ছোট গাছপালা,লতাগুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে, এবার ৪দিন ধরে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১০ একর বন পুড়ে ছাই হলো।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জয়নাল আবেদীন জানান, চতুর্থ দিন বিকেলে এসে শরণখোলা রেঞ্জ দাসের ভারনী এলাকার বনে নেভানো সম্ভব হয়েছে। তদন্তের পরই এই আগুনে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানানো সম্ভব হবে।