বাসস দেশ-৩২ : চট্টগ্রামে নামের মিলে কারাভোগকারী হাছিনার মুক্তি

19

বাসস দেশ-৩২
নামের মিলে-কারাভোগকারীর মুক্তি
চট্টগ্রামে নামের মিলে কারাভোগকারী হাছিনার মুক্তি
চট্টগ্রাম, ০৪ মে ২০২১ (বাসস) : মাদক ব্যবসায়ী হাসিনা আক্তারের পরিবর্তে চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি থাকা হাছিনা বেগম মুক্তি পেয়েছেন। চট্টগ্রাম ৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁইয়ার আদালত শুনানি শেষে তাকে মুক্তির আদেশ দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে আদালত এই আদেশ দেন বলে জানান হাছিনা বেগমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হাছিনা বেগম চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।
অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার হাসিনা আক্তার মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিন থাকা অবস্থায় আদালত তার সাজা ঘোষণা করে। সাজা ঘোষণার পর থেকে হাসিনা আক্তার লাপাত্তা ছিলেন। নামের মিল থাকার সুযোগে পুলিশ আসল আসামির পরিবর্তে একই এলাকার হাছিনা বেগমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান। প্রায় দেড় বছর সাজা ভোগের পর ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি আমাকে জানান।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বিষয়টি চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত ৫ম আদালতের নজরে আনেন তিনি। এরপর আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে আগে কারাভোগ করা হাসিনা আক্তার আর এখন কারাগারে থাকা হাছিনা বেগম সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ি আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ছবিযুক্ত বালামে প্রকৃত হাসিনা আক্তার ও হাছিনা বেগম একই আসামি নন বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। আদালত শুনানি শেষে বিনাদোষে সাজাখাটা হাছিনা বেগমকে মুক্তির আদেশ দেন।
অ্যাডভোকেট মুরাদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামির নামের প্রথম অংশ ও স্বামীর নামের সঙ্গে মিল। তবে অপরাধীর নামের সঙ্গে মিল থাকলেও বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে রয়েছে অমিল। কারাগারে থাকা হাছিনা বেগমের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার পৌরসভার চৌধুরী পাড়ায়। তিনি হামিদ হোছনের স্ত্রী। সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা আক্তারও একই এলাকার ইসমাইল হাজি বাড়ির হামিদ হোসেনের স্ত্রী।
আদালত সুত্র জানায়, হাসিনা আক্তার চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা পুলিশের হাতে দুই হাজার ইয়াবাসহ আটক হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২৭ নভেম্বর কারামুক্ত হয়ে লাপাত্তা ছিলেন। ২০১৯ সালের ১ জুলাই আদালত হাসিনা আক্তারকে ৬ বছরের সশ্রম কারাদ- ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন।
আদালতে সাজা হওয়ার পাঁচ মাস পর টেকনাফ থানা পুলিশ ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর একই এলাকার হাছিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান।
বাসস/জিই/কেএস/১৯৩০/কেকে