বাসস ক্রীড়া-৯ : বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দর্শকের ঢল

618

বাসস ক্রীড়া-৯
ফুটবল-দর্শক
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দর্শকের ঢল
নীলফামারী, ২৯ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : বাংলাদেশ-শ্রীলংকার মধ্যকার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে দর্শকের ঢল নেমেছিল। গ্যালারীতে তীল ধারণের জায়গা ছিলনা কোথাও। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন শিশু থেকে সব বয়সের নারী-পুরুষ। নিজ মাঠে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ওই ম্যাচ উপভোগ করে তৃপ্ত জেলার দর্শকরা।
বিকাল ৩টা ৫২ মিনিটে মাঠে প্রবেশ করে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা ফুটবল দল। মাঠে দলের উপস্থিতিতে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম এলাকায়। দর্শকরা হাত তালি ও হাত নাড়িয়ে অভিনন্দন জানান উভয় দলের খেলোয়ারদের। বেলুন উড়িয়ে দুই দেশের প্রীতি ওই ম্যাচের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিকেল ৪টা ৫ মিটিটে বাঁশি বাজিয়ে খেলার সূচনা ঘটান রেফারীর দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান মিজান।
প্রায় ২০ হাজার ৫শ’ দর্শকের ধারণ ক্ষমতার ওই স্টেডিয়ামে দর্শকদের ঢল নামতে শুরু করে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে অনেকে। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বেলা দেড়টার দিকে লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে স্টেডিয়াম এলাকা। এরপর ভেতরে প্রবেশে কিছুটা হুরোহুরি। সজাগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীদের দক্ষতায় কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সকলে ভেতরে প্রবেশ করে বিকাল ৪টায় খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই।
খেলা উপভোগ করতে এসেছিলেন জেলার ডোমার উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের কারিমুল হক (৫৬)। জীবনে প্রথমবার সরাসরি একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপভোগ করে তৃপ্ত হয়েছেন তিনি।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের স্বাক্ষী হলাম আমি। বাড়ির পাশেই আন্তর্জাতিক এমন ম্যাচ দেখবো তা কখনো ভাবতে পারিনি।’
একই গ্রামের জগদীশ রায় (৪০) বলেন, ‘আন্তর্জাতিক খেলাগুলো টেলিভিশনে দেখতাম। কখনো ভাবতে পারিনি বাড়ির পাশেই এমন একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপভোগ করতে পারবো। ম্যাচ উপভোগ করে খুবই আনন্দ পেয়েছি।’
আনন্দঘন পরিবেশে ম্যাচ উপভোগ করে সকলের ন্যায় আনন্দিত জেলা শহরের কলেজ শিক্ষার্থী শতাব্দী রায়। শিশু থেকে শুরু করে তার মতো করে ম্যাচটি উপভোগ করেছে অনেক শিক্ষার্থী। শতাব্দী জানায় ‘ম্যাচটি স্বরণীয় হয়ে থাকবে তার জীবনে। খেলা উপভোগ করে খুব ভালো লেগেছে ।
আসন সীমাবদ্ধতার কারণে নিজ জেলার স্টেডিয়ামে খেলা হলেও সরাসরি দেখতে পারেননি অনেকে। তাদের মধ্যে জেলা শহরের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘টিকেট না পেয়ে সরাসরি দেখতে পারলাম না খেলাটি। এরপরও মিস করিনি, টেলিভিশনের সামনে বসে উপভোগ করেছি।’
নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামের সাধারণ আসন সংখ্যা ২০ হাজার। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল এক হাজার। এ ছাড়া ভিআইপি আসন ছিল ৩৬৯টি। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যেই বিক্রি হয়েছে সকল টিকেট।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য আরিফ হোসেন মুন জানান, ওই ফুটবল ম্যাচ ঘিরে ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জেগেছে।
তিনি বলেন, জেলার স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকলে ম্যাচটি উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত।
ওই ম্যাচ উপভোগ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এমন একটি সফল আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমি। এ ধরনের আয়োজনের মধ্যদিয়ে আমাদের খেলাধুলা আরো সমৃদ্ধ হবে।’
খেলা শেষে স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন দুই দলের কোচ ও অধিনায়ক। উভয় দলের কোচ ও অধিনায়কই সফলভাবে ম্যাচ আয়োজনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। সকলের সহযোগিতায় সফলভাবে ম্যাচ সম্পন্নের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনসহ এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান তারা।
বাসস/প্রতিনিধি/২১০০/-স্বব