বাসস দেশ-১ : আব্দুর রহিমের স্বপ্ন পূরণে সাথী নাজমা খানম

190

বাসস দেশ-১
যশোর-রহিমের স্বপ্ন
আব্দুর রহিমের স্বপ্ন পূরণে সাথী নাজমা খানম
যশোর, ১২ এপ্রিল ২০২১ (বাসস) : হতদরিদ্র রিকশাচালকের ছেলে আব্দুর রহিমের মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে উদ্বেগ দূর হলো। রোববার বিকেলে সরেজমিন উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে রিকশাচালক আব্দুল হালিম গাজীর বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে হাজির হন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম। এরপর তিনি আব্দুর রহিমের বাবা-মা’র হাতে ভর্তি খরচ ১৫ হাজার টাকা তুলে দেন। এসময় চেয়ারম্যানের ছেলে আসিফ খান অভি, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলীসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এরআগে শনিবার ‘মেডিকেলে চান্স পাওয়া রহিমের শিক্ষাজীবন নিয়ে সংশয়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নিউজপোর্টাল সুবর্ণভূমিতে। নিউজটি নজরে এলে নাজমা খানম আব্দুর রহিমের খবর নেন। এরপর তিনি তাকে ভর্তি খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আব্দুর রহিমের বাবা আব্দুল হালিম বিশ্বাস বলেন, ‘মনে বড় ইচ্ছা ছিল ছেলেরে ডাক্তারি পড়াব। আল্লাহর ইচ্ছায় ছেলে ডাক্তারি পড়ার চান্স পাইছে। ওর ভর্তি খরচ, বই কেনা নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। রিকশা চালিয়ে কোনো রকম পেট চলে। এত টাকা পাব কনে? নাজমা আপা আমার বাড়ি আইছে। ছেলের ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দেছেন। আমার চিন্তাদূর হইছে। আমি খুব খুশি।’মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আব্দুর রহিমের খোঁজ নিয়েছি। জানতে পারলাম ওই ছেলেটার বাবা রিকশা চালান। গরীব মানুষ। ছেলের মেডিকেলে ভর্তির খরচ নিয়ে চিন্তায় আছে। আমি আব্দুর রহিমের ভর্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়েছি। লেখাপড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত যে কোনো প্রয়োজনে আব্দুর রহিমের পাশে দাঁড়াবো।’
অদম্য মেধাবী আব্দুর রহিম এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে মণিরামপুরের নেংগুড়াহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে ঢাকার পিলখানার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহম্মদ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। তিনি উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের আব্দুল হালিম বিশ্বাস ও জেসমিন বেগমের বড় ছেলে।
বাসস/এনডি/সংবাদদাতা/০৯৩৫/নূসী