বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শত বার্ষিকী অনুষ্ঠান তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে : কামাল চৌধুরী

157

ঢাকা, ৫ এপ্রিল, ২০২১ (বাসস) : সদ্য সমাপ্ত ১০ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তীর অনুষ্ঠান আগামী প্রজন্মকে দেশের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে জানতে অনুপ্রেরণা দানের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে দেশের উন্নয়ন ও সাফল্য তুলে ধরবে। বাসস-কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম-শত বার্ষিকী উদযাপন বিষয়ক জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এক ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। ৫৪ জন বিশ্ব নেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ভার্চুয়ালি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে ও সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শত বার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ-জয়ন্তী উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানিয়েয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে পাঁচ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান উপস্থিত ছিলেন। মোট ৪৯ বিশ্ব-নেতা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছে। প্রত্যেকেই বাংলাদেশের অভূতপূর্ব আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়োসী প্রংশসা করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কামাল বলেন, একটি স্বাধীন ও স্বার্বভৌম দেশ সৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখার জন্য বাঙালি জাতি তাদের জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা সব সময় আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের নির্দেশনা পেয়েই আমরা এই আয়োজনকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। এটা শুধু এই জাতির জন্যই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।’
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা এবং এ দেশকে উন্নয়নের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়ে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন হয়।
১০ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের প্রধান থিম ছিল ‘মুজিব চিরন্তন’। প্রতিদিন পৃথক থিম নিয়ে উৎসবটি উদযাপন করা হয়। ‘ভেঙ্গেছো দুয়ার এসেছো জ্যেতিময়’ ছিল ১৭ মার্চের থিম, ‘মহাকালের তর্জনী’ ছিল ১৮ মার্চের, ‘‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’ ছিল ১৯ মার্চের, ‘তরুণের আলোকশিখা’ ছিল ২০ মার্চের, ‘ধ্বংসস্তুপে জীবনের গান’ ছিল ২১ মার্চের, ‘বাংলার মাটি, আমার মাটি’ ছিল ২২ মার্চের, ‘নারী মুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’ ছিল ২৩ মার্চের, শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’ ছিল ২৪ মার্চের, ‘গণহত্যার কাল-রাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’ ছিল ২৫ মার্চের এবং ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণকথা’ ছিল ২৬ মার্চের থিম।
উৎসবের অংশ হিসেবে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও ভবনগুলো রঙিন আলোক-সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছিল। রাষ্ট্র-পরিচালিত বিটিভিসহ টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ১০ দিনব্যাপী নানা আয়োজন ও সরাসরি অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। কোভিড-১৯ এর চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনলাইনেসামাজিক যোগাযোগ মাধমগুলোতেও সরাসরি অনুষ্ঠানমালা দেখানো হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের প্রধানমনন্ত্রী ড. লোটে শেরিং, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী, শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মহিন্দ রাজাপাকসে এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহাম্মদ সোলিহ এই আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ মহা-সচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসন, চীনা প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক ট্যালী অন্যান্যদের মাঝে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রতিদিন দুটি অংশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো- আলোচনা-বক্তব্য ও মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম এবং বাঙালি জাতির জন্য তাঁর অবদান তুলে ধরেন।
মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, প্রখ্যাত দেশী-বিদেশী শিল্পী ও কলা-কুশলীরা বাংলাদেশ ও তাদের দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
এ বছর, বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শত বার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন করবে। এর আগে, সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করেছিল।