বাসস দেশ-২২ : রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মূল্যবোধ সবার জন্য দৃষ্টান্ত

637

বাসস দেশ-২২
বাংলাদেশ-রোহিঙ্গা সংকট
রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মূল্যবোধ সবার জন্য দৃষ্টান্ত
কক্সবাজার, ২৫ আগস্ট ২০১৮ (বাসস) : মানবতা এবং সমষ্টিগত ঐক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মূল্যবোধ এখন সকলের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিস এবং ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
বাংলাদেশের সরকার ও জনগনের প্রশংসা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যৌথ সাড়াদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎপর্যপূর্ণ সহায়তায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসন উভয়ের সম্মিলিত শক্তি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয় বাংলাদেশীরা সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তারা এদের সঙ্গে নিজেদের ঘর ও যথাসামান্য সম্পদ ভাগাভাগি করে নেন। আশ্রয় প্রার্থীদের আগমনের হার বাড়তে থাকায় তাদের বসবাসের জন্য সরকার ছয় হাজার একর জমি বরাদ্দ দেন। সংকটে সাড়াদানকারীরা গত এক বছর ধরে শিবির প্রতিষ্ঠায় সহায়তা দেয় এবং বর্ষা মৌসুমে এদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যেমন সেতু ও সড়ক, কালভার্ট ও খাল খনন করেন।
রোহিঙ্গা সংকটকে সমসাময়িক কালের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় হিসাবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘এক বছর আগে বলপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুতদের (রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি) সীমান্ত পাড়ি দেয়ার ঘটনা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে।এক মাসের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উত্তর রাখাইন রাজ্যে তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। বর্তমানে নতুন করে আসা ৭ লাখ রোহিঙ্গাসহ বিগত দিনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৯ লাখ ছাড়িয়েছে।’
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, জাতিসংঘ কর্মি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কর্মিদের প্রশংসা করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তাদের কাজে আমরা অনুপ্রেরণামূলক নিষ্ঠার পরিচয় পেয়েছি। এরা একটি অসহায় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ আশ্রয় পেতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।’
এতে বলা হয়, শরণার্থীদের ঘরগুলোকে মজবুত করার জন্য শেল্টার কিট দেয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে গভীর নলকূপ খনন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ল্যাট্রিন স্থাপন, লক্ষাধিক হাইজিন কিট ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের আগে আশ্রয় নেয়াদেরসহ ৮ লাখ ৬৬ হাজার রোহিঙ্গার জীবন বাঁচাতে প্রতিমাসে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কল্যানে গৃহিত বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করে এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় আহতদের চিকিৎসা, টিকাদান, শিশুদের অপুষ্টিজনিত পরিচর্যা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। কলেরা ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার রোধে সফল প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আশ্রয় শিবিরগুলোতে নারী, পুরুষ ও ছেলেমেয়েদের অপরিসীম মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা মেটাতে সুরক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। যেমনÑ বাল্যবিবাহ, শোষণ, পাচার ও শিশু শ্রম, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মতো সুরক্ষা ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে।
এছাড়াও, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সীমিত এলাকার মধ্যে নারী ও মেয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ স্থানের পাশাপাশি শিশুবান্ধব কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য শিশু শিক্ষার ব্যবস্থা করাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত হাজার হাজার আশ্রয় প্রার্থী রোহিঙ্গা শিশু এখন অস্থায়ী শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যোগ দিচ্ছে, যেখানে ইংরেজি ও বর্মি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা, গণিত এবং জীবন রক্ষাকারী বার্তা দেয়া হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকেদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শক্তিশালী দৃষ্টি আকর্ষণ প্রয়োজন।
বাসস/সবি/এমকে/২৩১৫/এবিএইচ