বাসস প্রধানমন্ত্রী-৬ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) : ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ অগ্রযাত্রা এই অঞ্চলের উন্নয়নে জরুরী : নরেন্দ্র মোদী

114

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৬ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
শেখ হাসিনা-মোদী ভাষণ
ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ অগ্রযাত্রা এই অঞ্চলের উন্নয়নে জরুরী : নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়া আমার জীবনের প্রথম আন্দোলনগুলোর মধ্যে একটি ছিল। আমার বয়স তখন ২২-২৩ বছর ছিল, যখন আমি ও আমার অনেক সহকর্মী বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার জন্য সত্যগ্রহ করেছিলাম।
তিনি সে সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সমর্থন করায় প্রেপ্তার ও কারাভোগ করেন বলে উল্লেখ করে বলেন, তখন স্বাধীনতার জন্য ‘ব্যাকুলতা’ বাংলাদেশে যেমন ছিল তা সেখানেও সঞ্চারিত হয়েছিল। বাংলাদেশে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর জঘন্য অপরাধ আমাদের রক্ত গরম করে দিত এবং রাতের পর রাত বিনিন্দ্র করে রাখতো।
এ সময় তিনি গোবিন্দ হালদার রচিত ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা,আমরা তোমাদের ভুলবো না’ গানটির ৪টি পংক্তি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একটি স্বৈরাচারি সরকার তার নিজস্ব নাগরিকদের গণহত্যা করছিল। তাঁদের ভাষা,তাঁদের কন্ঠস্বর ও পরিচয়কে চুর্ণ করছিল। অপারেশন সার্চ লাইটের নিষ্ঠুরতা, নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিষয়টি নিয়ে বিশে^র যতটা সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি।
নরেন্দ্র মোদী বলেন, এত কিছুর মধ্যেও আমাদের ভারতীয়দের জন্য আশার এক কিরণ দেখা গেল, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সাহস ও তাঁর নেতৃত্ব এটা নিশ্চিত করেছিল যে, কোন শক্তিই বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখতে পারবেনা’।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম/’
মোদী বলেন, তাঁর (বঙ্গবন্ধু) নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ, কৃষক,যুবক,শিক্ষক ও শমিক সহলেই এক হয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। তাই আজকের এই দিনটি মুজিববর্ষ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, তাঁর আদর্শ ও সাহসকে স্মরণ করার জন্যও একটি আদর্শ দিন।
তিনি বলেন,আজকের এই সময় ‘চির বিদ্রোহী’ ও মুক্তিযুদ্ধেও চেতনাকে আবার স্মরণ করার সময়।
তিনি বলেন, ভারতে আজও স্মরণ করা হয় যে, পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সর্বপ্রথম ভারতে এসেছিলেন। দিল্লীতে দেয়া তাঁর ভাষণের কথা অনেক মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
মোদী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের আত্মবলিদান নিয়ে বঙ্গবন্ধু চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন,তাঁর চোখ অশ্রুতে ভরে গিয়েছিল।
‘ঐ অশ্রুপাত ভারত-বাংলাদেশ আন্তরিক সম্পর্কের প্রতীক ছিল, আমাদের সম্পর্কের সাক্ষী ছিল। জীবনভর বঙ্গবন্ধুর সেই অশ্রু সেই ভারসাকে লালন করাই আমাদের দায়িত্ব,’ বলেন তিনি।
মোদী বলেন, এ বছর ২৬ জানুয়ারী ভারতের গণতন্ত্র দিবসে বাংলাদেশ সশ¯্র বাহিনী কন্টিনজেন্ট কতৃর্ক ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে’ সংগীতের সাথে দলগত পরিবেশনার কথা আমার মনে আছে। ভারত ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত এই রকমই সম্প্রীতিপূর্ণ, পারষ্পরিক বিশ^াসে ভরপুর অগণিত মুহুর্তের অপেক্ষা করছে।
বাসস/এএসজি-এফএন/২৩৩৫/এবিএইচ