বাসস দেশ-৫৭ : সমন্বিত প্রচেষ্টায় নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই : চসিক মেয়র

228

বাসস দেশ-৫৭
চট্টগ্রাম-মত বিনিময়
সমন্বিত প্রচেষ্টায় নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই : চসিক মেয়র
চট্টগ্রাম, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ (বাসস) : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আমি মেয়রের চেয়ারে বসবো বলে সব দায়িত্ব আমার নয়। আমি সব জান্তা নই। সমন্বিত প্রচেষ্টায় সিটি কর্পোরেশনের কাজে নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, প্রাক্তন সভাপতি কলিম সরওয়ার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজে সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইলসাম, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম প্রমুখ।
মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম পরিপূর্ণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নগরী ছিল। আমরা অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রামকে ধ্বংস করছি। মহানগরীর অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে নগরীর খালগুলো পরিপূর্ণভাবে খনন করতে হবে। আমি পুরনো খাল উদ্ধার করবো। দখলবাজ যেই হোক এই বিষয়ে আমি কঠোর অবস্থানে থাকবো। ছোট বেলায় জিইসি মোড় এলাকায় গেলে পাহাড়ের সারি দেখতাম। নগরীর উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে। নগরীকে জলাবন্ধতামুক্ত করতে হলে অতীতে যে প্রাকৃতিক জলাধার ছিল তা আবার সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষজ্ঞের মতামত ও ফিজিবিলিটি স্টাডি করে জলাধার সৃষ্টি করার চেষ্টা করবো।’
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। গত ২৭ জানুযারি শেখ হাসিনার উন্নয়নে আস্থা রেখে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি সেই আস্থার প্রতিদান দিব।’
রেজাউল করিম চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন রাজনীতি করে আসছি। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করেছি। সবসময় কল্যাণের রাজনীতি করেছি। লোভ লালসা ছিল না। মেয়রের চেয়ারে বসেও তার ব্যতিক্রম হবে না।’ নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার পরিকল্পনা সম্পর্কে রেজাউল বলেন, ‘বর্জ্য থেকে সার, বিদ্যুৎ হচ্ছে। আমি সূচনা করে যেতে পারি, যা পরের প্রজন্ম এগিয়ে নেবে।’
সব সমস্যার সমাধান একসাথে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে আমি নতুন ধারার প্রবর্তন করবো। সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, প্রকৌশলী, ডাক্তারসহ সবাইকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি করা হবে। সকলের পরামর্শে এবং নগরবাসীর কল্যাণে যা প্রযোজ্য হবে তাই গ্রহণ করবো।’
আগামীর করণীয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে রেজাউল করিম বলেন, ‘চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা অবহেলিত। করোনার শুরুতে চট্টগ্রামে একটা হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলাও ছিল না। আমি সরেজমিনে করোনার সেবা করতে গিয়ে দেখেছি মানুষ কতো অসহায়। আমি চসিক থেকে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবা চালু করে ভাসমান মানুষের সেবা করার ব্যবস্থা করবো। তারাও এই শহরের নাগরিক। তাদের দেখার কেউ নাই।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, চসিক স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। গণমাধ্যমের সংবাদে প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা হওয়া উচিৎ, ব্যক্তির নয়। প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা মানে মেয়রের সমালোচনা নয়। সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন সৎ সাহস নিয়ে। অন্যথায় প্রতিষ্ঠান নির্জীব হয়ে যাবে। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ দেখি। এতে কাজের সুবিধা হয়। আমরা গ্রামগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক খবর পাই সংবাদপত্রে। তা মার্ক করে দিই সমস্যা সমাধানের জন্য। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে আমাদের মধ্যে। সমন্বয় ছোট্ট শব্দ, বাস্তবায়ন বড় কঠিন।’
বাসস/জিই/কেএস/২০৫২/এএএ