বাসস দেশ-৪২ : করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য ৮৪ ডাক্তার-নার্সকে ডিএসসিসি’র প্রশিক্ষণ

160

বাসস দেশ-৪২
ভ্যাকসিন-প্রশিক্ষণ
করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য ৮৪ ডাক্তার-নার্সকে ডিএসসিসি’র প্রশিক্ষণ
ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ (বাসস) : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের লক্ষ্যে ৮৪ জন ডাক্তার ও নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ডিএসসিসি।
আজ নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৩০ জন ডাক্তার ও ৫৪ জন নার্সকে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ সংক্রান্ত এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ডা. ফজলে শামসুল কবির ও ডা. নিশাত পারভীন এতে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুজনেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষিত জাতীয় প্রশিক্ষক (মাস্টার ট্রেইনার) হিসেবে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ বলেন, সব ভ্যাকসিনের একটি ছোটখাটো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। সবার শরীরে টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সমানও হয় না, কারো কারো হতে পারে। এই টিকা নেয়ার পর কারো যদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়, সেই বিষয়ে আমাদের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা কি হবে – সে বিষয়ে আমরা আজকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।
যে সকল হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হবে সেসব হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সরা এই বিষয়ে প্রশিক্ষিত হবেন এবং টিকা প্রয়োগের পর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে, সে বিষয়ে তারা কোন ধরনের ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করবেন – সেসব বিষয় নিয়েই আমাদের আজকের এই প্রশিক্ষণ। আপনাদের মাধ্যমে এটা জানাতে চাই যে, আপনারা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করুন। জনসাধারণ যাতে পর্যায়ক্রমে এই ভ্যাকসিন নিতে পারেন এবং কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ যুদ্ধে যেন আমরা জয়ী হতে পারি।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ২০ নম্বর অবস্থানে আছে। আশা করছি, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগেও আমরা নজির স্থাপন করব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি এবং আগামী দিনে এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম সুচারুভাবে সফল করার বিষয়েও আমরা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, আগামী ২৭ জানুয়ারি করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপরের দিন অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি থেকে ঢাকা মহানগরীর পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকা বিধায় সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন ডাক্তার ও ৫৪ জন নার্সকে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। এই ভ্যাকসিন দুটি ডোজে দেয়া হবে। পয়েন্ট ফাইভ মিলিলিটার একটা ডোজ, তার আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে।
বাসস/সবি/এমএসএইচ/২২০৬/-এমএন