বাসস প্রধানমন্ত্রী-১ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির সকল অর্জনের বাতিঘর : প্রধানমন্ত্রী

122

বাসস প্রধানমন্ত্রী-১ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
শেখ হাসিনা-ঢাবি ১শ’বছর-ভাষণ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির সকল অর্জনের বাতিঘর : প্রধানমন্ত্রী

সরকার শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি এবং ভোকেশনাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সমগ্র দেশেই কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাকে বহুমুখীকরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি জাতি বিশ্বের যে মর্যাদা অর্জন করেছিল তা ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে হারিয়ে ফেলে। সে মর্যাদা পুনপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সরকার গঠনের পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিই তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, গোলাগুলি ও বোমাবাজির আওয়াজ আর শোনা যায়না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা নিয়ন্ত্রণ করার মত যথেষ্ট দক্ষতা আওয়ামী লীগের রয়েছে এবং মানুষও এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন। আমরা যে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পেরেছি সেটাই বড় কথা।’
তিনি বলেন, এখন আমাদের শিক্ষকদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষার্থীরও দায়িত্ব শিক্ষা গ্রহণ করা। কারণ শিক্ষিত জাতি ছাড়া কেউ কখনো এগাতে পারবেনা। বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সকলেই কাজ করবেন।
জাতির পিতা যে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন তাঁকে সমুন্নত রেখে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বে বাঙালি জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যও তিনি সকলকে কাজ করার আহবান জানান।
তিনি সরকারের সহযোগিতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে এটুকু বলতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের সহযোগিতা আপনারা পাবেন। একজন অ্যালুমনাই হিসেবেও আমি সে কথা বলতে পারি।’
করোনাভাইরাসের মধ্যেও বাংলাদেশের যে অগ্রগতি তাঁকে ধরে রাখার জন্য এবং আগামীতে আরো এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মাঝেও করোনাভাইরাস আমাদের বাধা দিয়েছে এবং সেটাকে অতিক্রম করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর এজন্য গবেষণার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। গবেষণা ছাড়া কোন অর্জন সম্ভব নয়। আপনারা গবেষণাকে গুরুত্ব দেবেন, সেটাই আমরা চাই।’
সরকার করেনাভাইরাস প্রতিরোধে সম্ভাব্য সবধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং করোনার জন্য ২০ লাখ ভ্যাকসিন উপহার পাঠানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন করোনার জন্য ভারত সরকার যে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে তা ইতোমধ্যেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এজন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’
আর তাঁর সরকার যে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ভারত থেকে ক্রয় করেছে তা আগামী ২৪/২৫ তারিখের মধ্যে দেশে চলে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
’৯৬ সালে সরকারে আসার পরই প্রথমবারের মত তাঁর সরকার গবেষণার জন্য বরাদ্দ প্রদান করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরআগে গবেষণার জন্য কোন বরাদ্দ ছিলনা।
আর তাঁর সরকারের এই পদক্ষেপের সুফল বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সবজি, তরিতরকারি এবং মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় অবস্থানে চলে আসার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণকে ‘গবেষণার ফসল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি কখনো অ্যাডহক ভিত্তিতে কাজ করেন না, যে কারণে পঞ্চার্ষিকী পরিকল্পনা এবং ১০ ও ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পরিচালনার রূপরেখা তাঁর সরকার দিয়ে যাচ্ছে এবং শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনাও করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাবা-মা, ভাই হারিয়ে শোকব্যথা বুকে নিয়ে তাঁর একটাই লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এজন্য যত বাধা-বিঘ্ন আসুক না কেন সেগুলো অতিক্রম করতে আমি সবসময় সচেষ্ট এবং আমার বিশ্বাস এদেশের মানুষও সেটা উপলদ্ধি করতে পারে।
তিনি বলেন, একটি দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আমরা অন্তত এটুকু বলতে পারি বাজেটের শতকরা ৯৭/৯৮ ভাগ আমরা নিজস্ব অর্থায়নেই বাস্তবায়ন করতে পারছি।
এ সময় দেশে-বিদেশে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তাঁর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই একটা সিদ্ধান্ত সাহস করে নিয়েছিলাম যা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভাবমূর্তিকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। কেননা সততার প্রশ্নে কারো কাছে আত্মসমর্পন করিনি।’
এই সাহস তিনি তাঁর বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকেই পেয়েছেন উল্লেখ করে বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রহ্নের বিখ্যাত কবিতা’র (প্রার্থনা) ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির/জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গ্রহের প্রাচীর/’ চরন দুটি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমার বাবার মুখেও সেই কথা শুনতাম। কখনও কোন কিছু নিয়ে ভয় বা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া চলবেনা। আমার বাবা এদেশকে ভালবেসেছেন সেই ভালবাসা বুকে নিয়েই পথ চলেছি, সেখানে কোন ভয় বা দ্বিধা নেই।’
বাবার কাছ থেকে পাওয়া সততার শিক্ষা নিয়েই তাঁর দিবা-নিশি পথচলা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমাদের যারা শিক্ষক ও গবেষক আছেন তাঁদেরকে বলবো বাংলাদেশ কিভাবে এগিয়ে যাবে তার ওপরে গবেষণা করুন।
শেখ হাসিনা দৃঢ় কন্ঠে বলেন, ‘আমি মনে করি একটা সিদ্ধান্ত নিলে সেটা করা যেতে পারে। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি। আমরা মাথা উঁচু করেই বিশ্বে চলবো।’
বাসস/এএসজি-এফএন/২২২৮/এবিএইচ