বাসস দেশ-৫১ : সুনামগঞ্জে আদালতের রায়ে ৪৯ শিশুকে শাস্তির বদলে বই

276

বাসস দেশ-৫১
সিলেট-শিশু-বই
সুনামগঞ্জে আদালতের রায়ে ৪৯ শিশুকে শাস্তির বদলে বই
সিলেট, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ (বাসস) : সুনামগঞ্জে বিচারাধীন ৩৫ টি মামলার রায়ে ৪৯ জন শিশুকে শাস্তির বদলে বই দিয়ে সংশোধনের জন্য বাবা-মার কাছে তুলে দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন একযোগে ৩৫ টি মামলার ব্যাতিক্রমী রায় দেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) এডভোকেট নান্টু রায়। তিনি বলেন, একই ধরনের অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় এক বছর করে সাজা হয়েছে ৪৯ শিশুর। তবে তাদের কারাগারে না দিয়ে আদালত সংশোধনের ১০টি শর্ত এক বছর সময় বাড়িতে মা-বাবার কাছে পালন করার শর্তে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এসব মামলায় দন্ডবিধির ৩২৩ ধারায় ৪৯ শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। তিনি জানান, ‘দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স-১৯৬০’ অনুযায়ী আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষনা করেন। দন্ডের এক বছর সময়কালে তাদেরকে ১০টি শর্ত পালন করতে হবে। শর্ত পালনের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা। রায় ঘোষণার পর আদালতের কর্মচারীরা প্রত্যেক শিশুর হাতে একটি করে ‘১০০ মনীষীর জীবনী’ গ্রন্থ তুলে দেন।
বিচারক রায়ে প্রবেশনকালে যেসব শর্ত পালনের কথা উল্লেখ করা হয় সেগুলো হলো ‘১০০ মনীষীর জীবনী’ গ্রন্থটি পাঠ করা, মা-বাবাসহ গুরুজনদের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলা, মা-বাবার সেবাযত্ন করা এবং কাজকর্মে তাঁদের সাহায্য করা, ধর্মীয় অনুশাসন মানা, নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা, প্রত্যেকে কমপক্ষে ২০টি করে গাছ লাগানো ও গাছের পরিচর্যা করা, অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করা, মাদক থেকে দূরে থাকা, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে না জড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
এ শিশুদের প্রবেশনে দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, পারিবারিক বন্ধনে থেকে এই কোমলমতি শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। প্রবেশন কর্মকর্তা ও শিশুদের অভিভাবকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রেখে ভবিষ্যতে যাতে তারা অপরাধে না জড়ায়, সেদিকে লক্ষ রাখা। জীবনের শুরুতেই যাতে শাস্তির কালিমা তাদের স্পর্শ না করে, সে জন্য শাস্তি না দেওয়া। সংশোধনাগারে অন্য যারা বিভিন্ন অপরাধে আটক আছে, তাদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা। পরিবারের সংস্পর্শে রেখে শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের ব্যবস্থা করা। সংশোধনাগারের ওপর চাপ কমানো। সর্বোপরি শিশুর সার্বিক কল্যাণ সাধন করা।
মামলার রায় ঘোষণার পর এক শিশুর অভিভাবক এ রায়ে সন্তোষ ও আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এভাবে রায় হতে পারে, এটা আমরা কোনভাবেই ভাবতেই পারিনি। এতে আমরা খুব খুশি। ছেলেটা যাতে আর কোনো অপরাধে না জড়ায়, এবং আদালত যে শর্তে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন সেটা আমরা যথাযথ পালনের মাধ্যমে আমার ছেলেকে সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দায়ের করা ৩৫ টি মামলায় ৪৯ জন শিশুর বিরুদ্ধে দন্ড বিধির ৩২৩ ধারায় অভিযোগ এনে মামলায় জড়ানো হয়েছিল, এসব অভাগা শিশুদের আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হত। ফলে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তা মধ্যে পড়ে শিক্ষাজীবনে বিগ্ন ঘটে ও তাদের স্বাভাবিক জীবনে বেড়ে উঠা হুমকির মধ্যে পড়ে। ওই ৪৯ জন শিশুকে দীর্ঘমেয়াদী ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন আদালত।
এর আগে আরো ১৪ জন শিশুকে সংশোধনের জন্য প্রবেশনে মুক্তি দিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।
বাসস/সংবাদদাতা/২১৩০/-কেএমকে