ভোলায় আমনের বাম্পার ফলন

707

ভোলা, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০ (বাসস) : জেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলায় আমনের মোট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে। যার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ হেক্টর। যা টার্গেটের চেয়ে ৪’শ ৩ হেক্টর জমি বেশি। ইতোমধ্যে জমির ৭৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হবে। ফলন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
নির্ধারিত জমি থেকে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৬৭ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আর কাটা ৭৫ ভাগ জমি থেকে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। বাকি ২৫ ভাগ জমি থেকে উৎপাদনকৃত চাল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি বিভাগ জানায়।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলায় মোট আমন আবাদের মধ্যে উফশীর আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৮ হেক্টর ও স্থানীয় হয়েছে ১৬ হাজার ১২০ হেক্টর। এখানে সাধারণত উফশীর মধ্যে ব্রীধান-৫১, ৫২, ৭৬, ৭৭, বিআর ২২, ২৩, স্বর্ণা ও স্থানীয়র মধ্যে কালিজিরা সুগন্ধী, সাদা মোটা, মোটা চাপলাইস, কাজল সাইল জাতের আমন বেশি আবাদ করা হয়। এছাড়া এবছর ২১০টি আমনের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তারা আরো জানান, ভোলা দ্বীপ জেলা হওয়াতে এখানে একটু দেরিতে ফসল ফলানো হয়। এবছর বর্ষা মৌসুমের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় কৃষকরা বিলম্ব করে বীজতলা তৈরি করে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে এখানে আমন আবাদ কার্যক্রম শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলে।
উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বাসস’কে জানান, চাল উৎপাদনে উফশীতে হেক্টর প্রতি লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ দশমিক ৮ মেট্রিকটন করে, সেখানে উৎপাদন হচ্ছে ৩ দশমিক ১ মেট্রিক টন। একইভাবে স্থানীয় জাতে টার্গেট ছিলো ১ দশমিক ৮ মেট্রিকটন, আর উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে ২ মেট্রিক টন করে। সেই হিসেবে জেলায় আমনের বাম্পার ফলন বলা যায়।
সদর উপজেলার শীবপুর ইউনিয়নের শান্তিরহাট এলাকার কৃষক আল-আমিন, জাফর হোসেন, রহমত আলী ও আব্দুল খালেক বলেন, তারা প্রত্যেকে এক একর করে জমিতে আমন আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে তাদের। চারা রোপণের প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেও শেষ পর্যন্ত ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের পরামর্শ সেবা পেয়েছেন বলে জানান তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো: রাসেদ হাসনাত বাসস’কে জানান, এবছর জেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে উফশীর মধ্যে স্বর্ণা ২৮ হাজার ৮২ হেক্টর, ব্রীধান ৫২ হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৭ হেক্টর, বিআর-২৩ হয়েছে ১৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। এছাড়া স্থানীয় জাতের মধ্যে কালিজিরা সুগন্ধী হয়েছে ২ হাজার হেক্টর, রাজা সাইল ১৯২০, মোটা চাপলাইস ১৬৫০ হেক্টর।
তিনি আরো জানান, আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের সারিবদ্ধ চারা রোপণ, সুসম মাত্রায় সার প্রয়োগসহ সব ধরনের পরামর্শ সেবা প্রদাণ করা হয়েছে। এছাড়া যে সময়টাতে ধানে পোকার আক্রমণ হতে পারে সেই সময়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সর্বাাত্বক সচেষ্ট থাকার কারণে রোগ-বালাই তেমন হয়নি । এবছর ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।