কলকাতা উপ-হাইকমিশনে বিজয় দিবস উদযাপিত

469

কলকাতা, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ (বাসস) : যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে কলকাতা উপ-হাইকমিশনে উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস।
উপ-হাইকমিশন চত্ত্বরে করোনাকালিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটির কর্মসূচি পালিত হয়।
বুধবার সকালে উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও উপ-হাইকমিশন চত্ত্বরে স্থাপিত ‘বঙ্গবন্ধু কর্ণার’-এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে দু”দিনব্যাপী বিজয় উৎসবের সূচনা হয়।
এর পরে মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে উপ-হাইকমিশনস্থ বাংলাদেশ গ্যালারীতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
বঙ্গবন্ধু কর্ণারে দু’দিনব্যাপী এই বিজয় উৎসবের উদ্বোধনী বক্তৃতায় উপ-হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরূদ্ধে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। আর এই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে।
তৌফিক হাসান বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়ার পর ১৮ এপ্রিল কলকাতা মিশনে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়েছিল। সেই হিসেবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম কুটনৈতিক মিশন কলকাতা। তাই এই মিশন কার্যালয়টি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অত্যন্ত গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে আমাদের ঋণের শেষ নেই। তাই বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তৌফিক হাসান।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন গুরূত্বপূর্ণ আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। বিজয় দিবসের প্রথম দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে সম্মিলিত গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন উপ-হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার সদস্যরা।
মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি ও আবৃত্তি ভিত্তিক সঙ্গীত পরিবেশন করেন শুভদীপ চক্রবর্তী, চিরন্তন বন্দোপাধ্যায়, রোজী ঘোষ দে ও শমিক পাল। নৃত্য পরিবেশন করেন সুমিত ভট্টচার্য্য ও তার দল। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়।