করোনার বিরুদ্ধে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা আশাব্যঞ্জক

356

ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০ (বসিস) : করোনার (কোভিড-১৯) বিরুদ্ধে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা আশাব্যঞ্জক বলে এক গবেষণায় দেখা গেছে।
রাজধানীর গুলশানে আইসিডিডিআর,বি আয়োজিত এক সেমিনারে বলা হয়, গবেষণার আওতায় যেসব রোগী অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ আইভারমেকটিনের ৫ দিনের কোর্স পেয়েছেন তাদের ভাইরাল ক্লিয়ারেন্স এবং রক্তের বিভিন্ন বায়োমার্কারের উন্নতি দেখা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি নিশ্চিতভাবে মৃদু কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আইভারমেকটিন অথবা আইভারমেকটিনের সাথে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন ব্যবহারের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বিষয়ে সেমিনারে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান,এমপি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন অনলাইনের মাধ্যমে এবং আইসিডিডিআর,বি-র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. তাহমিদ আহমেদ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
আইসিডিডিআর,বি-র এন্টারিক অ্যান্ড রেসপিরেটরি ডিজিজিস-এর সিনিয়র ফিজিশিয়ান সায়েন্টিস্ট এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ওয়াসিফ আলী খান গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।
জাতীয় পর্যায়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল; আইসিডিডিআর,বি; বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
আইসিডিডিআর,বি এই র‌্যান্ডোমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড, প্লাসিবো-কন্ট্রোলড ট্রায়াল যা একটি দৈবচয়ণ ভিত্তিক গবেষণা যেখানে প্রয়োগকৃত ওষুধ বিষয়ে পরীক্ষক ও অংশগ্রহণকারীর কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা থাকে না এবং ওষুধের পরিবর্তে ওষুধ সদৃশ বস্তু ব্যবহার করা হয়, এরকম একটি গবেষণার আওতায় ঢাকার তিনটি হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৬৮ জন কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে ২২ জনকে শুধুমাত্র মুখে খাওয়ার আইভারমেকটিন (১২মিগ্রা দিনে একবার ৫ দিন), ২৩ জনকে এক ডোজের আইভারমেকটিনের (১২মিগ্রা) সাথে ডক্সিসাইক্লিন (২০০মিগ্রা ডক্সিসাইক্লিন প্রথম দিন এবং পরবর্তীতে ১০০মিগ্রা দিনে দু’বার ৪ দিন) এবং ২৩ জনকে প্লাসিবো (ওষুধ সদৃশ বস্তু) দিয়ে চিকিৎসার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা তুলনা করে দেখেছে।
গবেষণাটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায় যে, ১৪ দিনের মাথায় ৫ দিন ধরে শুধুমাত্র আইভারমেকটিন পাওয়া রোগীদের ৭৭ শতাংশ রোগীর সার্স-কোভ-২ এর ক্লিয়ারেন্স হয়েছে অর্থাৎ আরটি-পিসিআর টেস্টে তারা কোভিড-১৯ মুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছেন, অন্যদিকে আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন পাওয়া ৬১ শতাংশ এবং প্লাসিবো পাওয়া ৩৯ শতাংশ রোগীর ভাইরাল ক্লিয়ারেন্স দেখা যায়।
এছাড়াও দেখা যায় যে, তৃতীয় দিনে শুধু আইভারমেকটিন পাওয়া দলে ১৮ শতাংশ রোগীর ভাইরাল ক্লিয়ারেন্স হয়েছে অন্যদিকে আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন পাওয়া ৩ শতাংশ এবং প্লাসিবো দলে ৩ শতাংশ রোগীর ভাইরাল ক্লিয়ারেন্স হতে দেখা যায়, এবং সপ্তম দিনে এটি ছিল যথাক্রমে ৫০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ। আইভারমেকটিন ও ডক্সিসাইক্লিন এবং প্লাসিবোর চিকিৎসার তুলনায় ৫ দিনের আইভারমেকটিন চিকিৎসায় রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থার উন্নতি ও ছিল সম্ভাবনাময়, যেখানে রক্তের বিভিন্ন বায়োমার্কারের উন্নতির মাধ্যমে নির্দেশিত সংক্রমণের তীব্রতার মাত্রা কমার লক্ষণ দেখা যায়।
শুরু থেকে ৭ দিনের মাথায় শুধুমাত্র ৫ দিন আইভারমেকটিন প্রাপ্ত দলে অন্য দু’টি দলের তুলনায় সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (সিআরপি) ও ল্যাকটেইট ডিহাইড্রোজিনেস (এলডিএইচ) এবং ফেরিটিন লক্ষণীয় ভাবে কমতে দেখা যায়। মৃদু কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে আইভারমেকটিনের কার্যকারিতা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক এবং এর ব্যবহার নিরাপদ বলে গবেষণায় প্রতীয়মান হয়। এই গবেষণার ফলাফলের ওপর একটি আর্টিকেল ডিসেম্বরের ২ তারিখে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইনফেকশাস ডিজিজেসে (আইজেআইডি) প্রকাশ করা হয়েছে।
এই গবেষণায় ব্যবহৃত সব ওষুধ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয়আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিঃ।