বাসস দেশ-৩০ : সিলেটে রায়হান হত্যার ভিসেরা প্রতিবেদন পিবিআই’র কাছে হস্থান্তর

109

বাসস দেশ-৩০
রায়হান-ভিসেরা প্রতিবেদন
সিলেটে রায়হান হত্যার ভিসেরা প্রতিবেদন পিবিআই’র কাছে হস্থান্তর
সিলেট, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০( বাসস) : সিলেটে রায়হান আহমদ হত্যার ময়না তদন্তের ভিসেরা প্রতিবেদন এ মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ‘প্রথম ময়না তদন্তের ভিসেরা রিপোর্টটি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী- অতিরিক্ত আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি’।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম জানান, ২৭ নভেম্বর ওই রিপোর্টটি মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইর কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। এর আগে ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম থেকে রিপোর্টটি ওসমানীতে আসে। অতিরিক্ত আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে এ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সকালে মারা যান সিলেট নগরীর আখালিয়া বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৩৪)। আগের রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই নিহত রায়হানের স্ত্রী হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।
গত ১১ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রায়হানের প্রথম ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়না তদন্ত শেষে রায়হানের শরীরে শতাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সংশ্লিস্ট চিকিৎসক। ভিসেরা রিপোর্টেও তার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রথম দফা ময়না তদন্তের ত্রুটি ও বাদি পক্ষের অসন্তুষ্টি থাকায় পরে ১৫ অক্টোবর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ২য় দফা ময়না তদন্ত করা হয়।
নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি অনুসন্ধানে ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
গত ১৩ অক্টোবর গোপনে পালিয়ে যান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই আকবর হেসেন ভুইঁয়া। পরে গত ৯ নভেম্বর সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে গ্রেফতার করে সিলেট জেলা পুলিশ। আকবর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় সিলেট জেলা পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর আকবরকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত আকবরকে কারাগারে পাঠান। গত ১৯ নভেম্বর রাতে দনা সীমান্ত এলাকার একটি পাহাড়চূড়া থেকে আকবরের দু’টি মুঠোফোন, তিনটি সিমকার্ড, শার্ট-প্যান্ট ও গেঞ্জি, ২০ টাকার একটি নোট, তার দুটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং এক মহিলার দুটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি উদ্ধার করা হয়। এগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পিবিআই।
রায়হান হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কনস্টেবল টিুটু চন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদকে দুই দফায় আট দিন করে এবং এএসআই আশেক এলাহীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয় । গ্রেফতার হওয়া সকলেই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
বাসস/সংবাদদাতা/এফএইচ/২০২৫/-এবিএইচ