বাসস বিদেশ-৭ : ব্ল্যাক হোল গবেষণার জন্য এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন জন

180

বাসস বিদেশ-৭
নোবেল-পদার্থবিজ্ঞান
ব্ল্যাক হোল গবেষণার জন্য এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন জন
স্টকহোম, ৬ অক্টোবর, ২০২০ (বাসস ডেস্ক) : নোবেল জুরি বলেছে, ব্ল্যাক হোল বিষয়ে গবেষণার জন্য মঙ্গলবার ব্রিটেনের রজার পেনরোজ, জার্মানীর রেইনহার্ড গেনজেল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্দ্রে গেজ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। খবর এএফপি’র।
নোবেল কমিটি বলেছে, ‘মহাবিশ্বের এক অতি বিচিত্র ঘটনা, ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে তাদের আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কারে নির্বাচন করা হয়েছে।’
জুরি জানায়, পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে ৮৯ বছর বয়সের পেনরোজ দেখিয়েছেন, ‘সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বটি কৃষ্ণগহ্বরের গঠনের দিকে পরিচালিত করে’। অপরদিকে ৬৮ বছরের গেনজেল এবং ৫৫ বছরের গেজকে যৌথভাবে পুরস্কৃত করা হয় ‘সৌরজগতে একটি অদৃশ্য এবং অত্যন্ত ভারী বস্তু আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে তারার কক্ষপথ নিয়ন্ত্রণ করে’ তা আবিষ্কারের জন্য।
১৯০১ সাল থেকে প্রথম নোবেল পুরস্কার প্রদানের পরে আন্দ্রে গেজ পদার্থবিজ্ঞানের পুরষ্কার প্রাপ্ত চতুর্থ মহিলা।
পেনরোজ ১৯৬৫ সালে গাণিতিক মডেলিং ব্যবহার করে প্রমাণ করেন ব্ল্যাক হোল গঠন করতে পারে এমন একটি সত্ত্বা হয়ে ওঠে যা থেকে কিছুই না এমনকি আলোও যেতে পারে না।
গেনজেল এবং গেজ ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিক থেকে ছায়াপথের কেন্দ্রে স্যাজিটেরিয়াস এ* নামের একটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে তারা একটি অত্যন্ত ভারী, অদৃশ্য বস্তু আবিষ্কার করেছেন, যা আমাদের সূর্যের ভরের চেয়ে প্রায় ৪০ লাখ গুণ বেশি যা পারিপার্শ্বিক নক্ষত্রগুলোকে টেনে আনে এবং আমাদের ছায়াপথকে তার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ঘূর্ণন প্রদান করে।
এই তিনজন পুরস্কার হিসেবে ১০ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার (প্রায় ১ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ৯ লাখ ৫০ হাজার ইউরো) ভাগাভাগি করবেন, যার অর্ধেক পেনরোজে এবং বাকি অর্ধেক যৌথভাবে গেনজেল ও গেজ পাবেন।
বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের শেষ ইচ্ছা বা উইল অনুযায়ী ১৮৯৬ সালের ১০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এই দিনে স্টকহোমে অনুষ্ঠানিকভাবে রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফের কাছ থেকে তারা পুরস্কার গ্রহণ করবেন।
কিন্তু এই বছর কারোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বিজয়ীরা তাদের নিজ দেশে তাদের পুরস্কার গ্রহণ করছেন দেখানো হয়।
গত বছর এই সম্মান কানাডিয়ান- মার্কিন বিশ্বতত্ত্ববিদ জেমস পিবলস এবং সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইকেল মেয়ার এবং দিদিয়ের কয়েলোজের পেয়েছিলেন। তাদের এই গবেষণা মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে উপলব্ধি বাড়িয়ে তোলে।
পিবলস দেখিয়েছিলেন যে, মহাবিশ্বের বেশীরভাগই ‘অজানা অন্ধকার পদার্থ এবং অন্ধকার শক্তি’ নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে মেয়র এবং কয়েলোজ আবিষ্কার করেন আমাদের সৌরজগতের বাইরে প্রথম একটি বহির্গ্রহের জন্য।
এই বছর নোবেল মৌসুম শুরু হয় সোমবার থেকে। এবার হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য ব্রিটেনের মাইকেল হিউটনের সঙ্গে চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভে অল্টার এবং চার্লস রাইসকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বাসস/এসই/২১২৫/এবিএইচ