বাসস ইউনিসেফ ফিচার-১ : করোনার সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা গ্রহীতা বেড়েছে

140

বাসস ইউনিসেফ ফিচার-১
কমিউনিটিক্লিনিক-সেবা
করোনার সময়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা গ্রহীতা বেড়েছে
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ (বাসস) : করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরা। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই করোনাকালে ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ায় খুশি স্থানীয়রা। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে অনেকে।
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনাকালে প্রতি ক্লিনিকে নিরাপত্তা সামগ্রী পিপিই মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস দিয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশমতে সপ্তাহে ৫দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারনা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।
তারা বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে নির্দেশনা দিচ্ছি, শরীর খারাপ লাগলে, স্বাস্থ্য অধি দফতরের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নির্দেশাবলী মেনে চলুন। ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। অযথা বের হবেন না, অন্যের ক্ষতি করবেন না।
এছাড়া একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য নিযুক্ত ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিসটেন্ট সপ্তাহে ৩ দিন করে ক্লিনিকগুলোতে সেবা দিচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতি শুরুর প্রথম দিকে রোগী কম থাকলেও মে, জুল, জুলাই, আগস্ট মাসে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগী সংখ্যা বেড়েছে। কারণ এখন সাধারণ রোগীরা সরকারি হাতপাতালে যেতে ভয় পাচ্ছে। তাই সাধারণ কোন অসুখ হলে, তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে সেবা নিচ্ছেন।
কমিউনিটি বেইজ হেলথ কেয়ারের (সিবিএইচসি) লাইন ডিরেক্টর ডা. সহদেব চন্দ্র রাজবংশী জানান, বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও সাহসিকতার সঙ্গে কর্মীরা প্রতিদিনই গ্রামীন মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। করোনাকালে ক্লিনিকগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ক্লিনিক কর্মীদের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়ার গাইডলাইন ইতোমধ্যে অনলাইনে তাদের দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কোভিড-১৯ সংক্রমিত প্রান্তিক জনগণের নমুনা সংগ্রহের জন্য তাদের এক দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে সম্ভাব্য রোগী চিহ্নিতকরণ এবং ডাটা সংগ্রহের মাধ্যমেও সিএইচসিপিরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার কুসম্বি কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা প্রতিভা সরকার জানান, করোনার জন্য কোথাও যেতে পারিনা। কিন্তু স্বাভাবিক রোগ তো আর আমাদের মুক্তি দিচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে আসি। এখানের ডাক্তারা আগের থেকে ভাল সেবা দিচ্ছে এখন। বর্তমানে বিনামূল্যে ওষুধও দেয় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে। করোনাকালে সামাজিক দূরুত্ব মেনে চলতে বলা হয়েছে। সরকারী হাসপাতালে অনেক স্থান থেকে রোগী আসবে, কে কোথায় থেকে আসবে, তার শরীরে করোনা ভাইরাস আছে কি না, তাই বাড়ির কাছে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে এসেছি।
কুসম্বি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অমৃত প্রমাণিক বাসসকে বলেন, করোনা সংক্রমন শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সাধারণ মৌসুমি জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা এ ধরণের সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন আমাদের কাছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি তাদের সেবা দেওয়ার। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের ক্লিনিকে রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগে গড়ে প্রতিদিন একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩০-৪০ জন রোগী পাওয়া যেত; এখন আসছে তার দ্বিগুণ।
সিবিএইচপি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ থেকে এ (২০২০) পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা গ্রহীতার ভিজিট সংখ্যা একশ(১০০) কোটির বেশি। এর মাঝে দুই কোটি ৩২ লাখের বেশি জরুরি ও জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা ৮৫ হাজারের বেশি।
সিবিএইচসি লাইন ডিরেক্টর ডা. সহদেব চন্দ্র রাজবংশী জানান, ভবিষ্যতে এ সব ক্লিনিকে ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ এখান থেকে শনাক্ত করা হবে। বিনা মূল্যে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা বা ৩০ ধরনের ওষুধ পাওয়া গ্রামের মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া। বর্তমানে মহামারি আকারে দেখা দেওয়া নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এ অবস্থায় বসে নেই কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীরাও। সাধ্যমতো মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও আরও ১ হাজার ২৯টি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা ও পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হয়। ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলার টঙ্গীপাড়া থানাধীন পাটগাঁতী ইউনিয়নের গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেখতে দেখতে ২১ বছরে পর রাখা এ ক্লিনিক বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার একটি অপরিহার্য্য অংশে পরিণত হয়েছে।
বাসস/ইউনিসেফ ফিচার/বিকেডি/স্বব/আহো/০৯৩৩/এসএইচ