নড়াইলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে ৯ হাজার ৩৬৯ উপকারভোগী স্বাবলম্বী হওয়ার পথে

229

নড়াইল, ৫ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : সদর উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৯ হাজার ৩৬৯ উপকারভোগী সদস্য স্বাবলম্বী হওয়ার পথে। এ প্রকল্প থেকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ৮ হাজার ৩৫০ জন উপকারভোগী সদস্য ঋণ গ্রহণ করে বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ ছাড়া ১ হাজার ১৯ জন সদস্য দ্রুততম সময়ে ঋণ পাবেন বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’র নড়াইল সদর উপজেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বাসসকে জানান, সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ২১১টি সমিতি রয়েছে। সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রত্যেক সমিতিতে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি আছে। একটি সমিতিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন মহিলা ও ২০ জন পুরুষ উপকারভোগী সদস্য হতে পারবেন। বর্তমানে এ উপজেলায় উপকারভোগী সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ৯ হাজার ৩৬৯ জন। প্রত্যেক সদস্য সপ্তাহে ৫০ টাকা হারে মাসে ২শ’টাকা সঞ্চয় জমা দেন। দু’বছরে একজন সদস্য’র সঞ্চয় জমা হয় ৪ হাজার ৮শ’ টাকা। দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকারের পক্ষ থেকে একজন সদস্যকে আবর্তক তহবিল হিসেবে আরো ৪ হাজার ৮শ’ টাকা প্রদান করা হয়। এ উপজেলার অধিকাংশ সমিতিতে দু’বছরে উপকারভোগী সদস্যদের সঞ্চয়ী তহবিলে জমা হয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। সরকার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অধীন ওই সমিতিকে আরো ৩ লাখ টাকা সমিতি তহবিল হিসেবে প্রদান করেছে। সদস্য তহবিল, সমিতি তহবিল ও সঞ্চয়ী লভ্যাংশ মিলে একটি সমিতির মূলধন হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকা। সমিতির উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সুবিধাভোগী সদস্যদের মাত্র ৮ শতাংশ লাভে চাহিদা অনুযায়ী লোন প্রদান করা হয়ে থাকে। লভ্যাংশের টাকাও ওই সমিতির তহবিল হিসেবে জমা হয়ে থাকে। প্রকল্প’র মাঠ সহকারি ও সমিতির ব্যবস্থাপক ঋণ প্রদান, টাকা জমাসহ সমিতির সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করে থাকেন। নড়াইল সদর উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মোট তহবিলের পরিমাণ ১ কোটি ৩০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
সদর উপজেলার গর্ন্ধবখালী গ্রামের ক্ষুদ্র কাঠ ব্যবসায়ী মো. খিজির শিকদার (৫৫) জানান, ৬ বছর আগে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’র সমিতি থেকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা লোন গ্রহণ করি। স্বল্প সুদের এ ঋণের টাকা দিয়ে ব্যবসায় সাফল্য আসতে থাকে। বর্তমানে এ সমিতিতে তার চলমান ঋণের পরিমাণ ৩০ হাজার টাকা।
চারিখাদা গ্রামের আরেক উপকারভোগী সদস্য শিল্পী বেগম (৪০) জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’র সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তার স্বামীকে একটি ইঞ্জিনচালিত বড় ভ্যান কিনে দিয়েছেন। এ ভ্যানের আয় দিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করছেন এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন।