দুই আত্মঘাতি গোলে রোমার বিপক্ষে বার্সেলোনার সহজ জয়

279

বার্সেলোনা, ৫ এপ্রিল ২০১৮ (বাসস) : রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৪-১ গোলের সহজ জয়ে বার্সেলোনা হয়ত সেমিফাইনালের পরিকল্পনাটা করে ফেলতেই পারে। কিন্তু বড় এই জয়ে প্রতিপক্ষেরও যে সমান অবদান রয়েছে তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কারণ বার্সার চার গোলের দুটিই যে এসেছে রোমার খেলোয়াড়দের সহায়তায়।
ড্যানিয়েল ডি রোসি ও কোসতাস মানোলাসের দুটি আত্মঘাতি গোল জেরার্ড পিকের দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ক্যাম্প ন্যুতে কাতালান জায়ান্টরা ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। ৮০ মিনিটে অবশ্য এডিন জেকো রোমাকে একটি এ্যাওয়ে গোল উপহার দেন। কিন্তু ৮৭ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের গোলে ইতালিয়ানদের সব আশাই কার্যত শেষ হয়ে যায়। এর অর্থ হচ্ছে আগামী সপ্তাহে ইতালি সফরে যাবার আগেই শেষ চারে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে বার্সা। কিন্তু সব মিলিয়ে বার্সার আক্রমণভাগ নিয়ে আরেকবার দুঃশ্চিন্তা করতেই হচ্ছে। দুটি আত্মঘাতি গোলের সুফল না পেলে কিংবা রোমার কয়েকটি গোলের সুযোগ নষ্ট না হলে কালকের ফলাফল বিপরীতও হতে পারতো। সেমিফাইনালের আগে এই বিষয়টি নিয়ে আর্নেস্টো ভালভার্দেকে নতুন করে চিন্তা করতেই হচ্ছে। ম্যাচ শেষে পিকে বলেছেন, ‘আমরা যদি গোলটি হজম না করতাম তবে ফলাফলটা আরো ভাল হতো। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা কোন অভিযোগ করছি না। আমরা বেশ ভালভাবেই এগিয়ে আছি। এখন আমাদের শনিবার লা লিগায় লেগানেস ও রোমার বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। রোমা খুবই ভাল দল, তারা আমাদের দারুণভাবে প্রতিরোধ করেছে। তারা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও ভাল ফুটবল খেলেছে। একইসাথে বিরতির পরে কিছুটা আগ্রাসী হয়ে উঠেছিল।’
ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা লিওনেল মেসি অবশ্য নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। কিছুটা হলেও তাকে হতাশ মনে হয়েছে। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে মেসি ছাড়াও কাল মূল একাদশে ফিরেছিলেন সার্জিও বাসকোয়েট। তিন সপ্তাহ আগে চেলসির বিপক্ষে বাসকোয়েট আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়েছিলেন। অন্যদিকে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ায় কাল মাঠে ছিলেননা রোমার মিডফিল্ডার রাডজা নেইগোলান। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময়ই বার্সা ছন্দে ফিরতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে রোমার নয়জনকে নিয়ে সাজানো ডিফেন্স লাইন-আপের বিপক্ষে বার্সার আক্রমণভাগ কিছুই করতে পারছিলনা। মূলত মধ্যমাঠেই বার্সার আক্রমণ থেমে যাচ্ছিল। ইভান রাকিটিসের কার্ভিং ক্রস পোস্টে লেগে ফেরত আসাটা ছিল বার্সেলোনা হয়ে প্রথমার্ধে একমাত্র ভাল একটি আক্রমণ। মিনিটখানেক পরেই ঠিক ডি বক্সের সামনে জেকোকে ফাউলের অপরাধে নেলসন সেমেডোর বিপক্ষে রোমার একটি পেনাল্টি আবেদন নাকচ করে দেন ডাচ রেফারী ড্যানি মাকেলি। পরবর্তীতে ইতালিয়ান টেলিভিশনে পেনাল্টির আবেদনটি নিয়ে বেশ হতাশা প্রকাশ করেছেন জেকো। তার মতে ঐ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে রোমা গোল আদায় করতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো। তবে ৩৮ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পাস থেকে মেসি বল ধরার আগে ডি রোসির পায়ে লেগে বল জালে জড়ালে আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক বার্সা।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনা কিছুটা ধীর গতিতে শুরু করে। ৫৫ মিনিটে রাকিটিসের ক্রস থেকে মানোলাসের পা ঘুড়ে বল জালে জড়ালে আবারো আত্মঘাতি গোলের লজ্জায় ডুবে রোমা। চার মিসিট পরে মেসির পাস থেকে পিকে পোস্টের খুব কাছে থেকে বল জালে জড়ান। ৮০ মিনিটে পেরোত্তির ক্রস থেকে জেকো রোমার হয়ে এক গোল করলে ম্যাচের আবহ কিছুটা হলেও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু ৮৭ মিনিটে উরুগুয়ের তারকা ফরোয়ার্ড সুয়ারেজ বার্সার হয়ে চতুর্থ গোল করলে চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ চারের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় কাতালান জায়ান্টরা।