রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফোজিতের দু’টি আলোকচিত্র প্রদশর্নী

542

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০১৮ (বাসস) : সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল থেকে নির্বিচারে বর্বোরোচিত নির্যাতন, ধর্ষণ, গণহত্যা ও উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জীবন যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশী আলোকচিত্রী ফোজিত শেখ বাবুর দু’টি আলোকচিত্র প্রদর্শনী লন্ডন শিল্পকলা একাডেমি এবং এজ হিল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মিয়ানমার থেকে নিগৃহিত হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা বিশ্বের সর্বাধিক নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের অন্যতম। আর বঙ্গোপসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় এই দেশটিতে আশ্রয় নেয়ার ফলে সেখানে নিদারুণ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। মানবীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের অবস্থা এতোই মর্মন্তুদ ও হৃদয় বিদারক যে, তা কারো বিবেককে নাড়া না দিয়ে পারে না। তাদের উদ্ভূত মানবেতর পরিস্থিতি অন্য সবার মতো করেই নাড়া দিয়েছে বাংলাদেশে ঢাকাভিত্তিক ফটো সাংবাদিক ফোজিত শেখ বাবুকেও। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমাগম তার ছেলে বেলায় যখন বহুসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রথম বাংলাদেশে আসতে শুরু করে সে সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচ্ছন্ন আকাঙ্খা ফোজিতের কর্মকা-ে ও অবস্থানে অটল রেখেছে। তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের দুর্ভোগ, রোগ, পীড়াদায়ক পরিস্থিতির প্রামাণাদি তার ক্যামেরায় বন্দি করেছেন। এ ধরনের কাজের জন্যে তাকে দিনের পর দিন পরিশ্রম করে যেতে হয়েছে রোদবৃষ্টি মাথায় নিয়ে। তিনি রোহিঙ্গাদের অপরিমেয় সহিষ্ণুতার অগ্নিপরীক্ষার চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রচার করেতে পেরেছেন ।
বাসস-এর কাছে ফোজিত তার প্রদর্শনী নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘প্রদর্শনীর চিত্রগুলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস হত্যাকান্ডের বিবরণ তুলে ধরে। অনেক চিত্রে ফুটে উঠেছে দুর্দশাগ্রস্থ রোহিঙ্গা শিশু যাদের পিতামাতাকে হত্যা করার পর তারা যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছবিতে ফুটে উঠেছে সেই সব মা বোনদের চিত্র মিয়ানমার বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে ধর্ষিত হয়ে যারা নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন, আশ্রয়হীন বয়োবৃদ্ধদের বাঁশের মাচায় ঠাঁই নেয়ার চিত্র। প্রকৃতপক্ষে তারা অভিভাবকহীন এক সম্প্রদায়।
ফোজিত জানান, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি ড. তাসলিম সাকুরের মতো ধীশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য লাভ করেন। ড. শাকুর মনে করেন, পশ্চিমাদেশগুলো বর্তমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তেমন সচেতন নয়। ড. শাকুরই ফোজিতকে যুক্তরাজ্যে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করায় উদ্বুদ্ধ করেন।
‘প্লিজ হেল্প ফর রোহিঙ্গা’ স্লোগান নিয়ে ‘হু আর দ্য নিউ বোট পিপল?’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী যুক্তরাজ্যের দু’টি স্থানে দুটি সময়ে প্রদর্শিত হয়। ১ জুন থেকে ১৪ জুন প্রদর্শনী চলে লন্ডনের এজ হিল ইউনিভার্সিটিতে। ৩১ মে এজ হিল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. জন ক্যাটার ইউনিভার্সিটির আর্ট সেন্টারে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
লন্ডন শিল্পকলা একাডেমিতে ৮ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আবদুল গাফফার চৌধুরীসহ অতিথিরা। চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সাথে চীন-রাশিয়া ও ভারতের স্বার্থ জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী।
এ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ায় মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় বিশ্ববিবেকের প্রতি আহ্বান জানান। তারা রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমার সরকারের জবাবদিহিতার উল্লেখ করে, অং সান সু চি’র নোবেল শান্তি পুরষ্কার ফিরিয়ে নেয়ার পক্ষে যুক্তি দেখান।
ফোজিত জানান, আনন্দের বিষয় হচ্ছে প্রাথমিকভাবে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। ব্যাপক মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রদর্শনীর ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে।