মালির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের জোর দাবি

131

বামাকো, ১৮ জুলাই, ২০২০ (বাসস ডেস্ক) : মালির বিক্ষোভ আন্দোলন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুবাকার কেইতার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা বিদ্রোহ কবলিত দেশটির সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। খবর এএফপি’র
দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠার প্রেক্ষাপটে ১৫- দেশীয় পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক ব্লক (ইকোওয়াস)-এর একটি প্রতিনিধি দল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।
রাজধানী বামাকোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ জুন আন্দোলনে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার এবং বর্তমান সরকার থেকে ‘প্রজাতন্ত্রের উত্তরণ’ দাবি করা হচ্ছে। মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা এবং মালির আট বছরের জিহাদি সংঘাত মোকাবেলায় ব্যর্থতার দাবি তুলে ধরে কেইটা সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। গত মাসে কেইটা বিরোধী এই বিক্ষোভ মিছিল বেড়ে গেলে তার রেশ ধরে ১০ জুলাই সর্বশেষ এক সমাবেশ সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে করে রাজনৈতিক সংকট গভীরতর হয়ে ওঠে।
বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ বিক্ষোভে রূপ নেয়। সরকারি এক হিসাব অনুসারে, বিক্ষোভকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে তিন দিনের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও ১৫৮ জন আহত হয়।
৫ জুনের আন্দোলনে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক-সমাজের নেতারা জোটবদ্ধ হয়ে একটি মূল দাবিতে পৌঁছায়, তারা প্রেসিডেন্টের সমঝোতার ভঙ্গি প্রত্যাখ্যান করে। ৫ জুনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা ইব্রাহিম ইকাসা মাইগা শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কেইটার পদত্যাগের দাবিটি পুনরায় উত্থাপন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে অনুরোধ করার আহ্বান জানিয়ে ‘সংকট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে নোট’ শিরোনামে এক বিবৃতি থেকে পড়ে শোনান।
মালিতে থাকা ইকোওয়াস মধ্যস্থতাকারীরা বুধবার থেকে যুদ্ধরত পক্ষগুলির মধ্যে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মার্চ-এপ্রিল জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও তার বিতর্কিত ফলাফল নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করেন। অনেক বিশ্লেষক বিষয়টিকে চলমান সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারও শুক্রবার মালির উভয় পক্ষকেই উত্তেজনা বাড়ানোর ব্যপারে সতর্ক করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার ইকোওয়াস মধ্যস্থতাকারীরা কেইতার সাথে সাক্ষাত করেছেন। গত মাসে বেশ কয়েকটি কেইতাবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের পর, সর্বশেষ ১০ জুলাই সহিংস আন্দোলন ও রাজনৈতিক তীব্রতর হওয়ার পর তারা কেইতার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ করেন।
মধ্যস্থতাকারীরা প্রভাবশালী ইমাম মাহমুদ ডিকোর সাথেও সাক্ষাত করেন। ডিকো এই আন্দোলনের প্রকৃত নেতা হিসেবে গণ্য। তিনি বলেন,‘আমরা প্রকৃতপক্ষে আফ্রিকান ও ভাইয়ের মতো করেই কথা বলছি এবং আমি আশা করি, ইনশাআল্লাহ্ এ থেকে এমন কিছু ু বেরিয়ে আসবে যা মালীর মাহাত্ম্য ফিরিয়ে আনবে।’ ২০১২ সালে উত্তরে জিহাদি বিদ্রোহের কারণে দেশটির বড় বড় অঞ্চলগুলি সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এর পর থেকে দেশটিতে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় কয়েক লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছে।
বিরোধী দলের পদত্যাগের জোর আন্দোলন সত্ত্বেও কেইটা তাতে সাড়া দেবেন বলে মনে হচ্ছে না। ৭৫ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম কেইতা ২০১৩ সালে দেশে পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে ক্ষমতায় আসেন।