বাসস ক্রীড়া-১১ : শতীর্থদের কাছে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন দাবী এনটিনির

114

বাসস ক্রীড়া-১১
ক্রিকেট-এনটিনি
শতীর্থদের কাছে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন দাবী এনটিনির
ডারবান, ১৮ জুলাই ২০২০ (বাসস) : কৃষ্ণাঙ্গ হবার কারণে গত মে’মাসের শেষের দিকে আফ্রিকান-আমেরিকান সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটুতে পিষে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য পুলিশের এক সদস্য। এ নির্মম হত্যার ভিডিও ভাইরাল হতেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব।
বিশ্ব ক্রিকেটের অনেক খেলোয়াড়ই প্রতিবাদ করেন। ১১৬ দিন পর শুরু হওয়া ক্রিকেটের প্রথম ম্যাচে হাঁটুর গেড়ে মাঠে এক মিনিট বসে থেকে সেই প্রতিবাদে শরীক হন ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটারস’ অর্থাৎ ‘কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান’ হ্যাশট্যাগে প্রতিবাদে শামিল হয় সকলে।
সেই সাথে বর্ণবিদ্বেষী আচরণের শিকারও হয়েছিলেন অনেক খেলোয়াড়রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দু’বার টি-২০ বিশ্বকাপ জয় করা অধিনায়ক ড্যারেন সামিও নিজে বর্ণবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়ে কিছুদিন আগে বোমা ফাঁটিয়েছিলেন। এবার বোমা ফাঁটালেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মাখায়া এনটিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে এনটিনি বলেন, ‘আমি জক ক্যালিস, শন পোলক, হার্সেল গিবস, মার্ক বাউচারদের সাথে অনেক ম্যাচ খেলেছি। তাদের সাথে খেললেও, খেলার সময় আমি একাকী ছিলাম। ডিনারে যাওয়ার জন্য কেউ আমাকে কেউ ডাকতো না। সতীর্থরা আমার সামনে দাঁড়িয়েই সব পরিকল্পনা করতো। কিন্তু আমাকে বলতো না। রাতে খাবার টেবিলে কেউ আমার সাথে বসতো না। আমরা একই জার্সি পরে মাঠে নামতাম। একই জাতীয় সঙ্গীত গাইতাম। কিন্তু আমাকে সারাক্ষণ একাকীত্বের সাথে লড়াই করতে হতো।’
বর্ণবিদ্বেষের কারনে টিম বাসেও চড়তেন না এনটিনি। সেই বিষয়েও মুখ খুললেন তিনি। এনটিনি বলেন, ‘বাসের ড্রাইভারের সাথে দেখা করে তার হাতে আমার ব্যাগটা দিয়ে দিতাম। এরপর দৌঁড়ে-দৌঁড়ে মাঠে যেতাম। ফেরার সময়েও একই কাজ করতাম। তখন অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেনি, কেন আমি দৌঁড়ে-দৌঁড়ে যাচ্ছি। আমিও এত দিন কাউকে এ সব কথা বলিনি। কিন্তু এখন বলার সময় এসেছে। আমি বাসের পেছনের সিটে গিয়ে বসলে অন্য সতীর্থরা সামনের দিকে চলে যেত। যখন দল জিতত, সব কিছু ঠিকঠাক চলতো। কিন্তু দল হারলেই প্রথমে আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতো। হারের জন্য সবার আগে আমাকে দায়ী করা হতো।’
পুত্র থান্ডোও বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন বলে জানান এনটিনি। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকেও একই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট শিবিরে, তাকে নানা কারণ দেখিয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আরও অনেক জায়গাতেই তাকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
বাসস/এএমটি/১৯১৬/স্বব