বাসস দেশ-৩৫ : জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান আইজিপির

300

বাসস দেশ-৩৫
আইজিপি- ভিডিও কনফারেন্স
জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান আইজিপির
ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২০ (বাসস) : জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে দুপুর আড়াাইটা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপী দেশের ৬ শ’ ৬০ থানার সকল অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তৃতাকালে আইজিপি এ আহ্বান জানান।
একসাথে দেশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে কোনো আইজিপি’র এ ধরনের ভিডিও কনফারেন্স এবারই প্রথম বলে পুলিশ সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
করোনাকালে পুলিশের অনন্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত তিন মাসে পুলিশ জনগণের সাথে থেকে জনগণের কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য যা করেছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব। জনগণ পুলিশকে এর প্রতিদানও দিয়েছে। পুলিশ মানুষের অগাধ বিশ্বাস, সম্মান ও আস্থা অর্জন করেছে। মানুষ পুলিশকে তাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান দিয়েছেন। যে মর্যাদা ও সম্মান মানুষ পুলিশকে দিয়েছেন তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
তিনি বলেন, পুলিশ গত তিন মাসে যেখানে গিয়েছে সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে যাবে না। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে জনগণের পুলিশ হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
যে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করে আইজিপি বলেন, বর্তমানে সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুন্দরভাবে জীবন চালানো যায়। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যয় হতে হবে তার বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বিলাসী জীবন-যাপনের স্থান পুলিশের চাকরি নয়। ধনী হতে চাইলে পুলিশের চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করবেন। দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকতে পারবে না বলেও তিনি হুসিয়ারি উচ্চারন করেন।।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আপনারা নিজে অবৈধ উপায়ে কোন অর্থ উপার্জন করবেন না, অন্য কাউকে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগও করে দিবেন না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, কোনো ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাও আপনাদের কাছে ঘুষ বা মাশোয়ারা চাইলে তা আমাকে নির্ভয়ে জানান। আমি ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে দেখবো’।
আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছা ও অনুপ্রেরনায় দেশকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে । সবার আগে পুলিশ হবে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত। দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। পুলিশের কোনো সদস্য মাদক গ্রহণ করবে না, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হবে না, মাদক ব্যবসায়িদের সাথে সম্পর্ক রাখবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ‘মাদকমুক্ত’ করতে চাই’।
বেনজীর আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর করোনা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বঙ্গবন্ধুর উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাজারবাগে পুলিশ সদস্যরাই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
পুলিশ প্রধান বলেন, ‘পুলিশকে আমরা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশি সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের পুলিশ হয়ে জনগণের সাথে থাকতে চাই’।
আইজিপি বলেন, সাধারণ মানুষকে নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে পুলিশকে বেরিয়ে আসতে হবে। শারীরিক শক্তি ব্যবহার না করে আইনি সক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে হবে।
পুলিশ অফিসার ও ফোর্সের জন্য প্রচলিত কল্যাণ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে তাদের চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া, আবাসন এবং অবসর পরবর্তী সময়েও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আইজিপি বলেন, সৎ ও স্বচ্ছ উপায়েও যেনো পুলিশের প্রত্যেক সদস্য জীবন যাপন করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সদস্যদের জন্য কল্যাণ পরিকল্পনা তৈরী করা হচ্ছে।
আইজিপি বলেন, ‘৬ শত ৬০ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হলো পুলিশের প্রতিচ্ছবি। আপনাদের ওপরই পুলিশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। আপনাদেরকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে জনগণ আপনাদের উপর আস্থা রাখতে পারে এবং আপনাদের প্রত্যেককে একজন ‘সোশ্যাল লিডার’ হিসেবে সম্মান করে’।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে দায়িত্ব পালনকালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে জীবন উৎসর্গকারী ৪৭ জন পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্যকে হারিয়ে বিপন্ন এসব পরিবারের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আইজিপি।
বাসস/সবি/এফএইচ/২১৩৮/এবিএইচ