গেটাফেকে হারিয়ে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ

141

মাদ্রিদ, ৩ জুলাই ২০২০ (বাসস/এএফপি): লা লীগার শিরোপা জয়ের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। বৃহস্পতিবার গেটাফের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেছে জিনেদিন জিাদানের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বি বার্সেলোনার সঙ্গে ৪ পয়েন্টের ব্যবধান নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রিয়াল। হাতে রয়েছে ৫ ম্যাচ।
আলফ্রেডো ডি স্টাফেনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন সার্জিও রামোস। পেনাল্টি থেকে তার দেয়া গোলটিই রিয়ালকে পাইয়ে দেয়া মুল্যবান তিনটি পয়েন্ট। তারা জয় পায় ১-০ গোলে। যেটি রিয়ালের শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে।
বর্তমানে ব্যস্ত সুচিতে রয়েছে স্প্যানিশ এই শীর্ষ লীগ। এমন একটি পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার সঙ্গে চার পয়েন্টের ব্যবধান রচনা করতে পারাটা দারুন ব্যাপার। শিরোপার বেশ কাছাকাছি সময়ে হেড টু হেডেও এগিয়ে গেছে রিয়াল।
রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান বলেন,‘ আমরা কিছুই জিততে পারিনি। এখন আমরা ভাল করছি সত্যি। তবে এখনো ৫টি ম্যাচ বাকী আছে। আমরা যদি শেষ পর্যন্ত এভাবে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে ভালই হবে।’
এই জয়ে সেপ্টেম্বরের পর বার্সার সঙ্গে এই মৌসুমে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পৌঁছাতে পারল রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী রোববার সান ম্যামেজে তারা যদি অ্যাথলেটিক বিলবাওকে হারাতে পারে তাহলে এই ব্যবধান ৭ পয়েন্টে উন্নীত হবার সুযোগ রয়েছে। তবে এর কয়েকঘন্টা পর বার্সা মোকাবেলা করবে ভিয়ারিয়ালের।
গত মঙ্গলবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গে ২-২ গোলে এবং সপ্তাহের শেষভাগে একই ব্যবধানে সেল্টা ভিগোর সঙ্গে ড্র করায় কাতালান জ্য়াান্টদের শীর্ষের অবস্থান হুমকীতে পড়ে যায়। সুযোগগুলো বেশ ভালভাবেই কাজে লাগিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
জিদান বলেন,‘ আমার কাজ হচ্ছে কঠিন পরিস্থিতির সময় দলকে শান্ত রাখা।’ লকডাউনের নির্বাসন শেষে লীগ শুরুর পর ছয় ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে তার শিষ্যরা। এর বিপরীতে গোল হজম করেছে মাত্র ২টি।
ম্যাচের শুরুতে বল দখলে রিয়াল এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে আধিপত্য ছিল গেটাফের। অষ্টম মিনিটে গোলও পেতে যাচ্ছিল তারা। মাথিয়াস অলিভেরার হেডে বল চাভিয়েরের হাঁটুতে লেগে পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়াতে যাবার সময় দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে সেটিকে ফিরিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া।
প্রথম ২২ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণে একচেটিয়া চাপ ধরে রাখে গেটাফে। এসময় চারটি কর্নার পায় তারা, বিপরীতে স্বাগতিকদের উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণই করতে পারেনি।
তবে এরপর পাল্টা আক্রমণে দারুণ এক সুযোগ তৈরি করে রিয়াল। লুকা মড্রিচের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে ফেরলঁদ মঁদি ছোট ডি-বক্সের মুখে নিচু পাস দেন। ছুটে গিয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক দাভিদ সোরিয়া।
কুলিং বিরতির পরপরই আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয় রিয়ালের। রামোসের ক্রসে ইসকোর ভলি রুখে দেন সোরিয়া।
৫৮তম মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন মড্রিচ। তবে তার শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। আট মিনিট পর আসেনসিওর পাস পেনাল্টি স্পটের কাছে পেয়ে দুর্বল শট নিয়ে হতাশা বাড়ান করিম বেনজেমা।
গোলের অপেক্ষা শেষ হয় ৭৯তম মিনিটে। ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়া দানি কারভাজাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। নিখুঁত স্পট কিকে গোলটি করেন রামোস। আসরে রিয়াল অধিনায়কের এটি নবম গোল, দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শেষ ১১ ম্যাচে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত লা লীগার অন্য ম্যাচে ওসাসুনা ২-০ গোলে এইবারকে এবং রিয়াল সোসিয়েদাদ ২-১ গোলে এসপানিওলকে পরাজিত করেছে।