বাসস প্রধানমন্ত্রী-২ (তৃতীয় ও শেষ কিস্তি) : যারা বলে ‘নৌকা ঠেকাও’ তাদের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী

546

বাসস প্রধানমন্ত্রী-২ (তৃতীয় ও শেষ কিস্তি)
শেখ হাসিনা-সংবর্ধনা
যারা বলে ‘নৌকা ঠেকাও’ তাদের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষ কিছু পায়। মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকে এটা আমরা বারবার প্রমাণ করেছি।
তিনি ’৭৫ পরবর্তী শাসকদের দু:শাসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ২১ বছর তারা মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। হাড্ডিসার, কঙ্কালসার দেহ দেখিয়ে বাইরে থেকে টাকা এনে তারা সে টাকা লুটপাট করেছে, বিদেশে পাচার করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জিয়া বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে জিয়াই ‘দায়মুক্তি’ অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিল।
সরকার প্রধান বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে ক্ষমতায় যেতে পারলে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। সে কাজ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। আজ বিশ্বে আবারো বাংলাদেশের মর্যাদা পুণ:প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়šীÍ, দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশে উদযাপিত হবে এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।
উন্নয়ন ও অর্জনে অসাধারণ সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে এদিন জনতার ঢল নামে।
লাল-সবুজ পোশাকে উদ্যানের সমাবেশস্থল ও আশপাশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি, দোয়েল চত্বর,হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন ও শাহবাগ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, নেচে-গেয়ে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জনসভায় আসেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, সড়ক দ্বীপে শোভা পায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা, উন্নয়নের শ্লোগান এবং প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য গাঁথা সম্বলিত বিলবোর্ড-প্ল্যাকার্ড । সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেও সাজানো হয় নানা রঙের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারসহ অপরূপ সাজে।
বেলা দুইটা থেকেই সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের মধ্যে শুরু হয় গণসংবর্ধনার আনুষ্ঠানিকতা। উন্নয়নের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির পক্ষ থেকে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রকাশনা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা দুপুর সাড়ে তিনটায় মঞ্চে আসার পর তাঁকে নিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ।
এরপর ‘আমার প্রিয় বাংলাদেশ’ শিরোনামে গীতিনাট্য পরিবেশন করা হয়। হয় আবৃত্তি আর নৃত্য পরিবেশনা।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মূল মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।
ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের কলি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে।’
প্রাপ্ত সংবর্ধনা বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা জনগণের। আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। তাদের জন্য কাজ করছি। এদেশের মানুষের ভাগ্য যেদিন পরিবর্তন হবে, সেদিন নিজেকে সার্থক মনে করবো।’বাংলাদেশের মানুষ যা কিছু অর্জন করেছে, মহান ত্যাগের মাধ্যমেই অর্জন করেছে বলেও উল্লেখ করেন জাতির জনকের কন্যা।
বাংলার মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র, স্বাস্থ্য, শিক্ষা বাসস্থান নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণই আমার উদ্দেশ্য।’
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড.হাছান মাহমুদ এবং উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সংবর্ধনা অংশ এবং সংগঠনের সমাজকল্যান সম্পাদক অসীম কুমার উকিল সাংস্কৃতিক অংশটি পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে আগত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, চাকরিজীবী, শিক্ষকসহ সকল শ্রেণী-পেশার জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
বাসস/এএসজি-এফএন/২১১০/-আসচৌ