জয়পুরহাটে ৪ হাজার দরিদ্র পরিবারে স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন প্রদান

370

জয়পুরহাট, ৩ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জয়পুরহাট জেলায় গত ১ বছরে ৪ হাজার দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত পরিবারে ৪ হাজার স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন প্রদান করা হয়েছে।
পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগী সংস্থা হিসেবে জয়পুরহাটের বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশন বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিছু দিন আগেও এসব পরিবারের লোকজন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাইরে ঝোপ ঝাড় ব্যবহার করতো তারা সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন পেয়ে এখন খুশি। বাড়িতে ল্যাট্রিন না থাকার জন্য বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে জানান, সদরের খনজনপুর এলাকার গৃহবধূ রশিদা বেগম। বামনপুর এলাকার গৃহবধূ গীতা রানী, আক্কেলপুর উপজেলার শ্যাম্পুর গ্রামের আসাদুজ্জামান সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন পেয়ে খুশি বলে জানান।
পিকেএসএফ সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে উদ্যোগক্তাদের জন্য স্যানিটেশন ঋণকে মূল ধারায় উন্নীত করে স্যানিটেশন পণ্যের বাজার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা এবং স্থানীয় গ্রামীণ পর্যায়ে সুবিধা বঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবার গুলোতে পণ্য ক্রয় করার জন্য অর্থের যোগান দিয়ে উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবহার বৃদ্ধি করা হচ্ছে এ প্রকল্পের লক্ষ্য। গ্রামীণ এলাকার সকল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণী যারা ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট দলের সদস্য তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ মহিলারা ওই প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিন স্থাপনে ঋণ সুবিধা পেয়েছে। ক্রেডিট দলের সদস্য ছাড়াও এলাকার আগ্রহী ব্যক্তিকে ল্যাট্রিন স্থাপনে ঋণ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান জাকস ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক ও প্রকল্পের ফোকাল পারসন খোরশেদ আলম। ল্যাট্রিন ব্যাবহারকারীদের পরিবেশ দূষনের বিষয় বিবেচনায় রেখে ল্যাট্রিন স্থাপনের স্থান নির্বাচন করা, ল্যাট্রিনের যতœ ও পরিস্কার রাখার এবং ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। অফসেট ল্যাট্রিন (ওয়াটার সীলকে স্থায়ীত্বশীল করার জন্য) ল্যাট্রিন ফ্লোরের আকার বড় (ব্যবহারের সুবিধার জন্য বিশেষ করে মহিলা ও শিশু) উন্নত সিরামিক প্যানসহ পরিষ্কার করার উপযোগী সিমেন্টের তৈরি ফ্লোর , বেড়া, চালা ও দরজাসহ একটি ল্যাট্রিন ঘর , ল্যাট্রিনের ভেতরে পানি ও সাবানের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়াও নারী-শিশু, গর্ভবতী, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের জন্য বিশেষ করে রাতে কিশোরী ও মহিলাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছে এ ল্যাট্রিন স্থাপন প্রকল্প । দরিদ্রদের মাঝে সামাজিক মর্যাদাবোধ সৃষ্টি করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারে আচরণের পরিবর্তন ঘটবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান, জাকস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নূরুল আমিন। আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ল্যাট্রিন স্থাপনের কাজ শেষ হলেও আরো ৫শ টি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ জন্য ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে।