যশোরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

400

যশোর, ২৭ মে, ২০২০ (বাসস): যশোরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে দোকানপাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গণপরিবহনের বিষয়ে নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
‘করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত’ জেলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। আজ সকাল ১১টায় যশোর সার্কিট হাউজে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ।
কমিটির সদস্য সচিব ও সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি লে. কর্নেল নেয়ামুল হালিম, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপকুমার রায়, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান ,এখন থেকে মালিকরা ইচ্ছে করলে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে অবশ্যই বিকাল ৪ টার পরে বন্ধ করে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রত্যেক দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরস্পরের সঙ্গে নির্ধারিত দুরত্বও বজায় রাখতে হবে।
এর আগে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২৭ এপ্রিল যশোর জেলাকে ‘লকডাউন’ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক।
প্রায় দুই সপ্তাহ পর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ মে দোকানপাট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু তখন ঈদবাজারে মানুষের চাপ ক্রমে বাড়তে থাকে এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে চলাচল অব্যাহত রাখে। সেই সাথে জেলায় প্রতিদিন বাড়তে থাকে করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক ১৭ মে নির্বাহী আদেশে জারি করে ১৯ মে থেকে ফের দোকানপাট বন্ধ করেন।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, আজকের সভায় দোকানপাট খোলা এবং শহরের শংকরপুর এলাকার ডিজিএল হসপিটালকে ‘অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্তনেয়া হয়। টিবি হাসপাতালকে যেভাবে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে, সেভাবেই চলবে। বাড়তি হিসেবে ডিজিএল হাসপাতালকে ব্যবহার করা হবে।
বেসরকারি ডিজিএল হাসপাতালে অপারেশনের সুবিধা আছে। যদি কোনো রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার করতে হয় তাহলে সেখানে অস্ত্রোপচার করা যাবে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন আরো জানান, আজ পর্যন্ত যশোরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত মোট ১০০ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ মারা যাননি। অনেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।