ইরাক ও সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিতাড়িত হবে : খামেনি

197

তেহরান, ১৮ মে, ২০২০ (বাসস ডেস্ক) : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনি রোববার বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিতাড়িত হবে এবং ওয়াশিংটনের মিত্ররাও এখন দেশটিকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখান’ করছে। খবর এএফপি’র।
সরকারি ওয়েবসাইটে খামেনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরাক বা সিরিয়া এ দু’টি রাষ্ট্রের কোথাও অবস্থান করতে পারবে না , তাদেরকেঅবশ্যই সরে যেতে হবে এবং তারা নিশ্চিতভাবে বিতাড়িত হবে।’
সিরিয়ার সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশ জড়িত রয়েছে। সেখানে তেহরান দামেস্ক সরকারকে সমর্থন করছে। অপরদিকে ওয়াশিংটন দেশটিতে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের বিরুদ্ধে কুর্দি বাহিনীকে সমর্থন করে আসছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরাকে উভয় দেশ প্রধান ভূরাজনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথে এক ভিডিও কনফারেন্সে খামেনি আরো বলেন, ‘এমন কি আমেরিকার কিছু মিত্র দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতি ও সরকারকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে এবং এসব দেশ অনেক কিছু বিষয়ে তাদেরকে আর বিশ্বাস করে না।’
তিনি বলেন, এসবের কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবাজ নীতি, বিশ্বের বিভিন্ন কুখ্যাত সরকারকে সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ, ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নির্যাতনের পক্ষে শর্তহীন সমর্থন এবং চীন থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তাদের সাম্প্রতিক ভয়ঙ্কর দুর্বল ব্যবস্থাপনা।
উভয় দেশই কোভিড-১৯ ভাইরাসে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একক দেশ হিসেবে বিশ্বে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে এবং মধপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা ছড়িয়েছে ইরানে। এ দু’দেশেই কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুগান্তকারি আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে ইরানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ২০১৮ সাল থেকে এ দুই চিরশত্রু দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত জুন মাসের শেষের দিকে তাদের দু’বার সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসতে দেখা যায়। এ সময় ইরান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে।
এটাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প একেবারে শেষ মুহূর্তে ইরানে পাল্টা বিমান হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাছেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তেহরান ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।