তুরস্কে করোনা মহামারিতে গরিবদের জন্য মসজিদ থেকে দান কার্যক্রম

444

ইস্তানবুল, ২২ এপ্রিল, ২০২০ (বাসস ডেস্ক) : ইস্তানবুলের একটি মসজিদের প্রবেশেমুখে যেখানে মুসল্লিরা জুতা রাখেন সেই র‌্যাকগুলোতে সুপারমার্কেটের মতো পেস্তা প্যাকেজ, তেলের বোতল, বিস্কুট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে, এ গুলো বিক্রির জন্য নয়, করোনা মহামারির কারণে অতি দরিদ্র ও অভাবী লোকদের মাঝে এ সব খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করা হয়।
এখানে মসজিদের জানালায় সাইনবোর্ডে লিখে রাখা হয়েছে, যে কারো কিছু প্রয়োজন হলে এখান থেকে নিয়ে যেতে পারেন।
সারিয়ার ডিস্ট্রিক্টের দিদিমান মসজিদের ইমাম আবদুল সামেত কাকির (৩৩) তুরস্কে মহামারি কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় স্থগিত হওয়ার পরে ধর্মভীরু মুসল্লিদের মাধ্যমে গরিবদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছানোর এই উপায় বের করেন।
তুরস্কে মঙ্গলবার নতুন করে ১১৯ জনের মৃত্যু হওয়ায় দেশটিতে মোট মৃতেুর সংখ্যা বড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৯ জন। এই কারণে ইস্তানবুলসহ প্রধান নগরীগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে ৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে যেখানে মেঝেতে ব্যাগভর্তি খাদ্যপণ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী স্তুপ করে রাখা হয়েছে সেখানে ইমাম কাকির এএফপি’র সাংবাদিককে বলেন, মসজিদে জামাত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে মসজিদ সচল রাখতে ধনী ও সম্পদশালী এবং দরিদ্র মুসল্লিদের একত্রিত করে দরিদ্রদের সহযোগিতার জন্য আমরা এই সেবা কার্যক্রম চালু করেছি।
এই তরুণ ইমাম মসজিদের মেজেতে স্তুপ করা খাদ্যপণ্য নিজেই নিয়ে বাইরের সেলফে সাজিয়ে রাখেন। ইমাম বলেন, তিনি দানের এই পদ্ধতি উদ্ভাবনার প্রেরণা পেয়েছেন অটোমান সংস্কৃতি থেকে, অটোমান সময়ে এই দানের পদ্ধতিকে বলা হতো ‘চ্যারিটি স্টোন’। তখন ছোট পাথরের পিলার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা হতো, ধনীরা সেখানে তাদের দানের সামগ্রী রেখে দিতেন, গরীব অভাবী মানুষ সেখান থেকে খাদ্য ও পণ্য সামগ্রী নিয়ে যেতেন।
এই চ্যারিটি স্টোনে দরিদ্রকে তার পরিচয় প্রকাশ করতে হতো না, মর্যাদার সঙ্গে তার যতটুকু নিজের জন্য প্রয়োজন সেটুকু নিয়ে অন্যদের জন্য বাকীটুকু রেখে যেতেন ।
ইমাম বলেন, মহামারি শুরুর পরে থেকেই স্বচ্ছল ব্যক্তিরা প্রতিবেশী গরিবদের সহযোগিতা দিয়ে আসছেন, আমরাও দরিদ্র ভাইদের কিভাবে সহযোগিতা দিতে পারি সে বিষয় চিন্তা করি।
তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের চ্যারিটি স্টোন অনুসরণ করে আমরা দানের এই সিদ্ধান্ত নেই এবং দানের পণ্য সামগ্রী মসজিদের র‌্যাকে জমা রাখি। যাদের সাহায্য দরকার তারা মসজিদের ওয়ালে টানানো তালিকায় নাম ও ফোন নন্বর লিখে যান। ইমাম এই তালিকা স্থানীয় কতৃপক্ষের কছে পাঠান,তারা নাম ও দারিদ্রের অবস্থা যাচাই করে নিজস্ব টিমের মাধ্যমে তাদের কাছে বার্তা পাঠান, তারা যেন মসজিদে এসে তাদের পণ্য সামগ্রী নিয়ে যান।এক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ আটটি আইটেম নিতে পারবেন।
দুই সপ্তাহ ধরে মসজিদ এই সেবা দিয়ে যাচ্ছে, দৈনিক ১২০ জন সহযোগিতা নিচ্ছেন,তালিকায় এখনো ৯০০ জনের নাম রয়েছে। দু’জন করে মাস্ক পরে দুরত্ব বজায় রেখে মসজিদে প্রবেশ করেন, অন্যরা বাইরে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করেন। আধা ঘন্টায় ১৫ জনের মতো সাহায্য নিতে পারেন। দিনের বেলা এই সার্ভিস চালু থাকে।
ইমাম বলেন, কোন রকম হেয় বা অমর্যাদা না করে আমাদের ভাই-বোনদের আমরা সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।