বাসস দেশ-১২ : এমএসএমই’র প্রণোদনার টাকা ছাড়করণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে ব্যবহারের আহ্বান ডিসিসিআই’র

242

বাসস দেশ-১২
প্রণোদনা- ব্যাংক
এমএসএমই’র প্রণোদনার টাকা ছাড়করণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে ব্যবহারের আহ্বান ডিসিসিআই’র
ঢাকা, ২২ এপ্রিল, ২০২০ (বাসস) : প্রাঘাতি করেনাভাইরাসের কারণে এমএসএমই খাতে সরকার ঘোষিত প্রনোদনার অর্থ ছাড়করণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে ব্যবহারের আহবান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। চলমান করোনা ভাইরাসে উদ্ভুত পরিস্থিতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির উপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাথে ডিসিসিআই’ বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষত দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) কথা বিবেচনায় বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠিত আলোচনায় ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে ঘোষিত প্যাকেজের আওতায় কুটির, এমএসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রাপ্তি সহজতর নাও হতে পারে। বেশিরভাগ কুটির, এসএমই, এমএসএমই এবং নগদ লেনদেন নির্ভর ব্যবসাসমূহ ঋণ প্রাপ্তির আবশ্যকীয়তা পূরণের অভাবে অথবা বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহের ন্যয় ব্যাংকের সাথে ততটা ভাল সুসম্পর্ক না থাকায় প্রণোদনার টাকা থেকে ঋণ প্রাপ্তিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে যদিও তারা ব্যবসা পরিচালনায় যথেষ্ট কম্পøায়েন্ট (অনুবর্তী)। এর সমাধান স্বরূপ, এমএসএমই’র প্রণোদনার টাকা এমএসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের প্রদান করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সম্পৃক্ত করে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করে ডিসিসিআই। এদিকে ক্রমান্বয়ে কিভাবে কিছু কিছু ব্যাবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে পুণরায় চালু করা যায় তার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করার জন্য ডিসিসিআই অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাচ্ছে। ডিসিসিআইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
নতুন এমএসএমই যাদের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ২ বছর বা তারও কম, তাঁদের ব্যবসা পুনঃনিবন্ধন ফি, গ্যাস, বিদুৎ ও পানির বিল, ব্যাংক সংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ এবং আমদানি, রপ্তানি সংক্রান্ত বন্দরের চার্জসমূহ মওকুফ করা যেতে পারে। এ ধরণের এমএসএমই-দের দুই বছরের জন্য পুণঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় ১ (এক) শতাংশ সুদে চলতি মূলধন হিসেবে ‘ব্যবসায় পুনরুদ্ধার তহবিল’ প্রদান করা যেতে পারে। যেহেতু এ মুহূর্তে চলাচলের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরী আর এ সময়টাতে যে সকল এমএসএমই ই-কমার্সের সাথে সম্পৃক্ত তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ই-কমার্স ব্যবসাতে যাতে আরও এমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাগণ আগ্রহী হতে পারেন তাই তিনি তাঁদেরকে ভ্যাট, ট্যাক্স অব্যাহতি দেয়া অথবা নগদ প্রণোদনা প্রদানের প্রস্তাব করেন। অপ্রচলিত খাত যেমন ভাসমান ব্যবসায়ী, হকার, ভাসমান দোকান, মুদি এবং এক ব্যক্তি নির্ভর একক ব্যবসায়ী যারা আছেন তাঁদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় নিয়ে এসে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে স্বল্প সুদে ব্যবসা পুণঃগঠনে জরুরী তহবিল প্রদান করা যেতে পারে।
এছাড়াও, যথাযথ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠনসমূহের কাছ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করে সেই অর্থ বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। নি¤œ আয়ের মানুষ ও অসহায়দের খাদ্য নিরাপত্তা এবং অপ্রচলিত খাতের শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগীতার বিষয়গুলোও এসময় আলোচনায় উঠে আসে।
অর্থমন্ত্রী সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই সকল স্তরের মানুষের কথা বিবেচনায় একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক ও স্বচ্ছ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের লক্ষে নীতিমালা গ্রহণ করেছে। স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। তিনি জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যেই নানা পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, আর এ সকল পদক্ষেপ ও কর্মসূচি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদীহিতার সাথে নেয়া হয়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত এ সকল পদক্ষেপ ও কর্মসূচির জন্য অর্থমন্ত্রীকে ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।
বাসস/সবি/১৮৩৫/-স্বব