বাসস সংসদ-৩ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) (প্রধানমন্ত্রী) : স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, কেউ অবস্থান পরিবর্তন করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

243

বাসস সংসদ-৩ (দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি) (প্রধানমন্ত্রী)
শেখ হাসিনা-সংসদ-ভাষণ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, কেউ অবস্থান পরিবর্তন করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ যেহেতু ছোঁয়াছে রোগ তাই চিকিৎসার জন্য তিনটি হটলাইন খোলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১৬২৬৩, ৩৩৩ এবং ১০৬৫৫। এরমাধ্যমে আমাদের নিবেদিত প্রাণ চিকিৎসকগণ চিকিৎসাসহ নানারকম পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
সকলের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ায় তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৩৩ এ ফোন করে শুধু চিকিৎসাই নয়, যারা হাত পাততে পারেনা, বাড়িতে খাবার নেই। কাজেই সেই তথ্যটা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ’দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে আমি নির্দেশ দিয়েছি তারা যেন এই হটলাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। যখন এখানে ফোন করে কেউ সহযোগিতা চাইবেন তখনই তাদের যেন সহযোগিতা (জরুরী খাদ্য) পাঠানো হয়। এজন্য সম্পূর্ণ ডাটা এন্ট্রির ব্যবস্থাও আমরা করে দিয়েছি।’
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দুুর্ভিক্ষের পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলা করে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত যেন জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আয়-রোজগার সচল থাকে সেজন্য তাঁর সরকারের ইতোমধ্যে ঘোষিত প্রায় একলাখ কোটি টাকার প্রণোদণা প্যাকেজের পুনরুল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। যা আমাদের জিডিপি’র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।’
সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখের সঙ্গে আরো ৫০ লাখ যোগ করে সেই সংখ্যা কোটিতে উন্নীত করায় ৫০লাখ নতুন রেশন কার্ড প্রদানে সরকারের উদ্যোগও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আরো ৫০ লাখ কার্ড করে দেব। আগে ৫০ এবং পরে ৫০। অর্থাৎ এক কোটি কার্ড করে দিয়ে প্রতি পরিবারে ৪/৫ জন সদস্য হলে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি লোক সুবিভাভোগী হবে।
‘খাদ্যে যেন কোন অসুবিধা না হয়, সে ব্যবস্থাটা আমরা করতে পারবো,’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য এখন পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ৫০ কোটি টাকা নগদ এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।’
এই সময়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মালদ্বীপে খাদ্য এবং কুয়েতে ওষুধ সাহায্য এবং চীনে ভাইরাস ছড়ানোর প্রথম পর্যায়ে মাস্ক, গ্লাভস এবং স্যানিটাইজার জাতীয় সামগ্রী দিয়ে তাঁর সরকারের সহযোগিতা প্রদানেরও উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা করোনার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। অনেক বিভাগীয় এবং জেলা হাসপাতালেও খোলা হয়েছে। মোট আইসোলেশন শয্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২শ’।’
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রত্যেক জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন সহ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাটাও আমরা করবো।’
ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট ভাবে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারমধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, সংক্রামক রোগ হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাষ্ট্রোলিভার ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল এবং লালকুঠি হাসপাতাল। এছাড়া কিছু বেসরকারী হাসপাতালকেও অনুরোধ করা হয়েছে, রোগী সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কারণ, এই রোগ কতদিন থাকতে কেউ বলতে পারছে না।
তিনি এই বিপদ থেকে দেশ এবং দেশবাসীকে রক্ষার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে বেশি বেশি প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।’
ঘরে বসেই ইবাদত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কাবা শরিফ এবং মদিনা শরিফেও কারফিউ দেওয়া হয়েছে। কাজেই মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসেই আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আল্লাহ নিশ্চয়ই সে দোয়া কবুল করবেন।
সংসদ নেতা বলেন, ‘আল্লাহর শক্তি যে সব থেকে বড় শক্তি সেটাতো করোনা ভাইরাসের শক্তি দেখেই আমরা বুঝতে পারি যে অস্ত্র, গোলা-বারুদ কিছুই কাজে লাগে না।’
‘সবাই আল্লাহকে ডাকেন আমরা এবং বিশ্ববাসী সবাই যেন এই করোনা ভাইরাসের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরে আসতে পারি,’ যোগ করেন তিনি।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা বক্তব্যের শুরুতে সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাঁর বয়স হয়ে গিয়েছিল। তারপরেও বলবো আমাদের সংগঠনের জন্য তিনি একটা শক্ত পিলার ছিলেন।’
১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার সময়কালের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে সময় যে স্বল্প ক’জন মানুষ আমার পাশে ছিলেন তার মধ্যে শামসুর রহমান শরিফ ছিলেন একজন।’
তিনি বলেন, ‘সেই চলার পথ মোটেও সহজ ছিল না। অনেক বাধা বিঘœ অতিক্রম করেই চলতে হয়েছে। কিন্তু তিনি সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং পাশেই থেকেছেন।’
বাসস/এএসজি-এফএন/২১৫৫/-আরজি